নানা কারণে বিলম্বিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার শেষে আর এক মাসের মধ্যেই রায় পাওয়া যাবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইঞা বলেছেন, “সব কিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মামলাটির রায় হবে। আমরা কাঙ্ক্ষিত একটা রায় পাব। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হল বুধবার।
মহামারীর কারণে দীর্ঘ ছুটির পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষের ভুলের কারণে পুনরায় অভিযোগ গঠন, বিচারকের প্রতি আসামিপক্ষের অনাস্থা, বিচারকের কেভিডে আক্রান্ত হওয়ার মত ঘটনায় এ মামলার বিচার বিলম্বিত হয়েছে বার বার।
বহুল আলোচিত এ মামলায় এখনো রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। এরপর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাবে।
আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা তাড়াতাড়ি বিচার শেষ দেখতে চান। ইতোমধ্যে অনেক সময় পার হয়ে গেছে। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করি।”
বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। মামলার আসামিরাও সবাই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী।
পরদিন তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ওইবছর ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫ জনকে।
প্রায় এক বছর পর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এই আদালতে মামলাটি এখন যুক্তিতর্ক শুনানি পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন থাকলেও বিচারক কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। মামলার পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে ২০ অক্টোবর।
গত বছর অভিযোগ গঠনের পর আসামিপক্ষ বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানায়; আসামিপক্ষের কয়েকজন হাই কোর্টেও যান। এরপর চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের আদেশ সংশোধনের আবেদন করে। তাছাড়া মহামারীর কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইঞা বলেন, “করোনার কারণে আদালত দুই দফা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে মামলার বিচার কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এখন মামলাটির যুক্তিতর্ক চলছে। এরই মাঝে বিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
“আগামী ২০ অক্টোবর মামলার তারিখ আছে। আমরা সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরব। এরপর আসামিপক্ষ যুক্তি তুলে ধরবেন। আশা করছি, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বিচার শেষ হবে।”
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। কারাগারে থাকা ২২ আসামি গত ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তিন আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।
এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। এ মামলার চার্জ গঠনের সময় শব্দগত ত্রুটি থাকায় ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ তা সংশোধনের আবেদন করে। পরদিন ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করে আদালত।
আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে, তবে তা শেষ হয়নি।
আসামি ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্তর আইনজীবী আমিনুল গণী টিটো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এর আগে বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছিলাম । মামলাটি বিচারের জন্য অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তাতে সায় মেলেনি। হাই কোর্ট থেকেও সাড়া পাইনি। তাছাড়া ছুটি, বিচারকের অসুস্থতা- ইত্যাদি কারণে বিচার পিছিয়ে গেছে।”
