দেশের শ্রমিকদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশের পর শ্রম আইন পুনঃ পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভায় এ সংক্রান্ত একটি পথ নকশা জমা দেওয়া হবে বলে সরকার আশা রাখছে।
শ্রম অধিকার সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাপারে জানিয়ে গত সপ্তাহে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব কে এম আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) অধিভূক্ত ইন্টারন্যাশনাল লেবার স্ট্যান্ডার্ডস ডিপার্টমেন্টের পরিচালকের কাছে একটি চিঠি লিখেন।
তিনি লিখেছেন, পরবর্তীতে এ পথ নকশা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে পেশ করা হবে।
২০১৯ সালের জুনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের ১০৮তম অধিবেশনে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ব্যাপারে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিভিন্ন ধারায় উল্লেখিত নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ লেবার ইন্সপেকশন কনভেনশন ১৯৪৭, দি ফ্রিডম অব এসোসিয়েশন এন্ড প্রটেকশন অব দি রাইট টু অর্গানাইজ কনভেনশন ১৯৪৮, এবং দি প্রটেকশন অব দি রাইট টু র্অগানাইজ এন্ড দি কালেক্টিভ বার্গেইনিং কনভেনশন ১৯৪৯ প্রতিপালন করছে না।
চিঠিতে সচিব জানিয়েছেন, “একটি সুষ্ঠু এবং বাস্তবভিত্তিক পথ নকশার জন্য ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভায় সাধারণ যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রম আইন পর্যালোচনা (এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও নিয়ম), ফ্রিডম অব এসোসিয়েশন, যৌথ দরকষাকষির অধিকার, শ্রম সংস্থার তালিকাভূক্তিকরণ, এবং শ্রম আদালত সংক্রান্ত বিষয়গুলো।”
পথ নকশা প্রস্তুতের অংশ হিসেবে এই মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে প্রতিষ্ঠান মালিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বাংলাদেশীয় মালিকদের সমিতি, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমিতি ও স্থানীয় শ্রমিক সমিতির সাথে তিনি আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগের যৌক্তিক সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে একটি পথ নকশা তৈরির জন্য সরকার এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এবং মালিক সমিতিগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেছে।
ইতোমধ্যে ইতালি, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও ব্রাজিলের শ্রমিক প্রতিনিধিদের দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে গত মাসের প্রথমদিকে শ্রম মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কাছে একটি জবাব পেশ করেছে।
জবাবে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে যে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও, এখন পর্যন্ত নিবন্ধন আবেদন বাতিলের হার অনেক বেশি।
জবাবে আরো বলা হয়েছে, “আমরা এর সত্যতা স্বীকার করছি যে এখন অবধি রেজিস্ট্রেশন আবেদন বাতিলের হার বেশি, কিন্তু শ্রম বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এর পরিমাণ কমানো যেতে পারে।"
