প্রযুক্তিগত দিক থেকে মানুষ প্রতিনিয়ত আরও বেশি উন্নত হচ্ছে, সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই উন্নয়নের পাল্লা ভারি হবার সাথে সাথে, প্রতিযোগিতামূলক যেকোনো কিছুই আজ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এ মুহূর্তে প্রযুক্তির কল্যাণে যে বা যারা দক্ষ হয়ে উঠছেন, কেবল তাদের জন্যই প্রতিযোগিতার ময়দান কিছুটা সহজ। তবে বলে রাখা ভালো, শুধু যে প্রযুক্তি দক্ষতা আপনাকে সব পাইয়ে দেবে ব্যাপারটি কিন্তু মোটেও এমন নয়।
প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের বাইরে আর যে কয়টি মূল্যায়ন খুব বেশি দরকারি, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেআত্ম দক্ষতা।
ভেতরগত কিছু গুণ, যা সবসময়ই সব মানুষের জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে ভীষণ সহায়ক হয়। তাই আমরা আমাদের আজকের লেখায়, কীভাবে নিজেকে ভেতরগত দিক থেকে আরও বেশি দক্ষ করে তোলা যায়, সেগুলো নিয়ে কথা বলব।
প্রতিদিন পড়ুন
বই হচ্ছে জ্ঞানের খনি। যে যত বেশি বই পড়ে, সে তত বেশি জানতে পারে। আর প্রতিনিয়ত জানার সঙ্গে থাকার মানেই হচ্ছে, জীবনের বিভিন্ন দিকপাল সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করা। যা কিনা ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে খুব উত্তম কিছু পথ সন্ধানে ভীষণ সাহায্য করে।
নতুন ভাষা
ভাষা মানুষকে নানাভাবে সমৃদ্ধ হবার সুযোগ করে দেয়। ভাষার কল্যাণেই আমরা একটি জাতির সংস্কৃতি কিংবা নানাবিধ দিক সম্পর্কে জ্ঞাত হই। তাই, যথাসম্ভব সব মানুষের উচিত, তার মাতৃভাষার বাইরে আরও নতুন কিছু ভাষা দক্ষতা অর্জন করা। এবং এই অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় নিজেকে অনন্য করে তোলা।
নতুন কোর্স
নিজেকে সমৃদ্ধ করার আরেকটি অন্যতম পথ হচ্ছে, নতুন কোর্স গ্রহণ করা। ইন্টারনেটের বিভিন্ন কোর্স বর্তমানে খুব জনপ্রিয়। সেগুলো আবার খুব বেশি সময়সাপেক্ষ বা ব্যয়বহুল নয়। তাই, যে-কেউ চাইলেই ঘরে বসে এই কাজটি সেরে ফেলতে পারে। আবার, অনলাইন ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মাধ্যম নানাবিধ কোর্সের ব্যবস্থা করে। সেগুলো গ্রহণের মধ্য দিয়েও নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা যায়।
ভয় জয় করা
প্রতিটি মানুষের জন্যই ভয় শব্দটি খুব বেশি ভয়ংকর। কারণ এর মাধ্যমেই ব্যক্তি অনেক কিছু জানা সত্ত্বেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারে না। এক্ষেত্রে ভীতি দূরীকরণে ব্যক্তি বিশেষ ভিন্ন ভিন্ন উপায় খুঁজে নিতে হয়। তবে সর্বজনীনভাবে একটি উপায় হতে পারে যে কাজে যার ভয় যত বেশি, সে কাজটি খুব দ্রুত করে ফেলা এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ভয় কাটিয়ে ওঠা।
খুব ভোরে জাগ
ভোরবেলার মনোরম পরিবেশে আমাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এসময় নিজেকে আরও বেশি জানা যায়, এবং নিজের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। অন্য কেউ যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন কেউ চাইলেই এসময়টাকে উর্বরতা দান করতে পারে।
শরীরচর্চা
সুস্থ দেহে সুন্দর মন। মনোজাগতিক উন্নয়নে শরীরচর্চা খুব ভালো সহায়তা করে। প্রতিদিনের রুটিনে নির্দিষ্ট কিছু সময় অবশ্যই এর পেছনে ব্যয় করা দরকার।
চিঠি লিখুন
আগামী পাঁচ বছর পর নিজের অবস্থান, এবং সে সম্পর্কে নিজেই নিজেকে চিঠি লেখার অভ্যাস আমাদের আরও বেশি কর্মক্ষম করে তুলতে পারে। কারণ, পাঁচ বছর পর আমাদের অবস্থান অনুমান করতে গেলে, আমরা আমাদের ত্রুটিগুলো জানতে পারব, অথবা আমাদের উদ্দেশ্য হাসিলে আর কী দরকার, সে সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা পাওয়া সম্ভব।
সঠিক মানুষ
যেকোনো মানুষের উন্নয়নের পেছনে সে নিজে ছাড়াও অন্য কারো না কারো অবদান থাকে। ব্যক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের দরকার একজন সঠিক মানুষ। যে তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিতে পারে, এবং তাকে বিভিন্ন বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারে। তাই, নিজের উন্নয়নের পথে দ্বিধা তৈরি করতে না চাইলে, অবশ্যই সঠিক মানুষের সাহচর্যে থাকা উচিত। অর্থাৎ, ব্যক্তি যে বিষয়ে নিজেকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর, ঠিক সে বিষয় সম্পর্কে জানাশোনা মানুষের সাথে সখ্যতা রাখা, এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া।
মিলেমিশে কাজ করা
নিজের চিন্তার সাথে মিলে আছে, এমন মানুষের সাথে আমরা সবাই-ই কাজ করতে চাই। কিন্তু সবসময় এমনটা না-ও ঘটতে পারে। হয়তো কর্মক্ষেত্রে, একদম উল্টো মত পোষণ করা মানুষের সাথে আমাদের কাজ করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে, পছন্দের বাইরে গিয়ে ভিন্ন মতের মানুষ থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের ধারণা নিতে পারি। যা পরবর্তী সময়ে জীবনের নানাবিধ কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের অনেক কাজে আসবে।
বিরতি নিন
বিরতিহীন কোনো কাজই স্বস্তিদায়ক হয় না। আর স্বস্তি ছাড়া কোনো কাজ কখনোই সুন্দর হতে পারে না। তাই, নিজের উন্নয়নের প্রয়োজনে আমরা যা-ই করি না কেন, তা যেন একটানা ও একঘেয়ে না হয়। বরং, বিরতি নিয়ে ধীরেসুস্থে এগিয়ে গেলে, খুব আনন্দের সাথেই আমরা আমাদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারি।
সময় যেহেতু বয়ে যাবার প্রয়োজনেই জন্ম নেয়, সেহেতু সময়কে গুরুত্ব না দেয়ার মানে নিজেকেই অদরকারি করে তোলা। সুতরাং, স্ব অবস্থানে আরও বেশি পোক্ত হতে সময়কে আপন করে নেওয়াই মূল কর্ম হওয়া দরকার। নিজেকে গড়ে তোলার এবং ক্রম উন্নয়নে এগিয়ে নেবার যাত্রা আনন্দময় হোক।
সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com