আজ দেশের প্রথম ইংরেজি অর্থনৈতিক দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের ১ আগস্ট তিনি ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ১৯৯৩ সালে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেনের জন্ম ১৯৪৮ সালে। তাঁর পিতা মরহুম আইউব আলী। মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ১৯৬৭ সালে বিএম (সন্মান) ও ১৯৬৮ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে করাচিতে হাবিব ব্যাংকে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিভাগে শিক্ষানবিস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭০ সালে ইসলামাবাদে পাকিস্তান অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধানী গবেষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭১ সালে সরকারি চাকুরি ত্যাগ করে সাংবাদিকতার জীবন বেছে নেন। বাংলাদেশ অবজারভারে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। এরপর নিউ নেশনে বিশেষ প্রতিনিধি, বার্তা সংস্থা ইউএনবিতে অর্থনৈতিক সম্পাদক ও ঢাকা কুরিয়ারে নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে দ্য ডেইলি স্টারে অর্থনৈতিক সম্পাদক হিসেব যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদকের দায়িত্ব নেন এবং তাঁর সম্পাদনাতেই দৈনিকটি প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সাংবাদিকতার পুরোধা হিসেবে আবির্ভূত হন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাপৃত রেখেছিলে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র ফেলো। প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন ১৯৯৫-২০০১ সময়কালে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পর্ষদ সদস্য ছিলেন ১৯৯৭-২০০০ সময়কালে। এছাড়াও রাষ্ট্র মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের পর্ষদ সদস্য ছিলেন দুদফায় ২০০৫ পর্যন্ত। ছিলেন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট সিকিউিরিটিজ অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এবং বেসরকারি বে লিজিং-য়ের স্বতন্ত্র পরিচালক। সাউথইস্ট ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
অর্থনৈতিক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ইকোনমিক রিপোর্টাস ফোরামের আজীবন কৃতিত্ব সন্মাননা। পেয়েছেন দুলাল স্মৃতি স্বর্ণ পদক ও নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী জাতীয় পুরস্কার।
পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসূত্রে ভ্রমণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ। অশংগ্রহণ করেছেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আঙ্কটাডসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আয়োজিত কর্মশালা ও সেমিনারে।