আগামী বছর ডিসেম্বরে চালু হবে ঢাকা-গাজীপুর বাস করিডোর


এফই প্রতিবেদন | Published: September 29, 2021 10:21:53 | Updated: September 29, 2021 18:36:29


ছবিঃ ইন্টারনেট

অবশেষে সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অধীনে নির্মিত দেশের সর্বপ্রথম গাজীপুর-বিমানবন্দর বাস করিডোরের উদ্বোধন করা হবে।

এটি চালু হলে, ২০.৫ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ করিডোর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণে গণপরিবহন চলার সুবিধা হবে। এতে জনগণের ভোগান্তি অনেকটা কমবে।

৪,২৬৮ কোটি টাকা সমমূল্যের এই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে প্রায় এক দশক আগে।

ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড সম্প্রতি তাদের উত্তরা অফিসে একটি সংবাদ সম্মেলন চলাকালে এবং একটি জুম আলোচনাসভার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাছে উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, আসন্ন ডিসেম্বরে ১০০টি বিশেষ বিআরটি বাসের প্রস্তাবনা দাখিল করা হবে, যা দেশে আনতে প্রায় সাত থেকে নয় মাস লেগে যাবে।

তিনি বলেন, করিডোর উন্নয়নের কাজ শেষ করতে বেশ কিছু বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে অধিক সময় লাগছে। তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন কাজ চলছে।

জনাব ইসলাম বলেন, প্রায় ১৬ কিলোমিটার রাস্তার কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

করিডোরের সাথে প্রায় ৬৫টি সংযোগ সড়ক বা শাখা সড়কের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ইসিএনইসিএর অনুমোদনের পর বাসভিত্তিক গণপরিবহন সেবা চালুর লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) বৃহত্তর ঢাকা সাস্টেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প-এর ঘোষণা দেয়।

এই প্রকল্পের অধীনে ১৬ কিলোমিটার সড়কের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে রাস্তার মাঝে বিআরটি-এর জন্য চার লেন বিধান বজায় রেখে আট লেনে উন্নীত করা হবে।

বাকি চারটি লেন অন্যান্য পরিবহনের চলাচলের জন্য রাখা হবে।

এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উত্তোলিত রাস্তা এবং আট লেন বিশিষ্ট টঙ্গী সেতু নির্মাণ করছে।

কাজ চলাকালে সঠিকভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে না পারায় ২০১৭ সাল থেকে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রকল্পের কারণে যাত্রীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

চীনা ঠিকাদারদের বিলম্বে কাজ শুরু এবং জল-নির্গমণের সঠিক ব্যবস্থাপনাবিহীন ত্রুটিযুক্ত নকশা প্রণয়নের মতো এমন বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে প্রকল্পটিকে।

এসব কারণে প্রকল্পের খরচ ২,০৩৯ কোটি টাকা সমমূল্য থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় বাস্তবায়নের সময় এবং খরচ পুনঃসংশোধন করা হয়েছে।

জনাব ইসলাম বলেন, বিআরটি লাইন চালু হয়ে গেলে গাজীপুর-বিমানবন্দর করিডোরের যানজট আর থাকবে না।

প্রতি ঘণ্টায় ২০,০০০ যাত্রী পরিবহণের সক্ষমতা থাকায় বিআরটি চালু হওয়ার পর করিডোর থেকে যাতায়াতের জন্য অন্যান্য ধরনের বাহনগুলোর চাহিদা কমে যাবে।

তিনি বলেন যে, প্রতি ৮০০ মিটার পর পর বাস থামার জায়গা থাকার কারণে জনগণকে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অন্য কোনো ধরনের বাহনের উপর নির্ভর করতে হবে না।

করিডোর ব্যবহার করার জন্য ইতোমধ্যে কোম্পানি বর্তমান বাস মালিকদের সাথে কথা বলতে শুরু করেছে, যাতে করে তাদেরকে এই রাস্তা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা যায়।

বাসগুলোর মান এবং তা রক্ষণাবেক্ষনের ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকল্প পরিচালক বলেন, সরকারি ক্রয় নিয়ম মেনে ১২-মিটার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কিছু বাস কোনো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হবে।

smunima@yahoo.com

Share if you like