রাজা মিডাস যা স্পর্শ করতেন তাই নাকি সোনায় পরিণত হতো! ফলমূল, খাবারদাবার – এসবও বাদ যেত না। কিন্তু, সোনার খাবার কি আর খাওয়া যায়! সে এক ভারী সমস্যা। গ্রীক পুরাণের সেই রাজা সোনার খাবার খেতে না পারলেও বর্তমানে বাংলাদেশের গুটিকয়েক মানুষ সোনার আইসক্রিম খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আর এই আইসক্রিম খেতে একেকজনকে লাখ টাকার হিসেব গুণতে হচ্ছে। কী আছে এই আইসক্রিমে?
সারিনা, ঢাকার অন্যতম অভিজাত এলাকা বনানীতে অবস্থিত একটি পাঁচতারকা হোটেল। গত ১৭ জুলাই হোটেল সারিনা তাদের যাত্রার ১৯ তম বছরে পদার্পণ করেছে। আর এই বিশেষ দিনটিকে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তোলার জন্য দেশে প্রথমবারের মতো এডিবল গোল্ড দিয়ে তৈরি আইসক্রিম পরিবেশন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে এডিবল গোল্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন খাবার প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশে এবারই প্রথম।
এই আইসক্রিম তৈরিতে যে ২৪ ক্যারেটের এডিবল গোল্ড ব্যবহার করা হয়েছে তা সুদূর দুবাই থেকে আনা হয়েছে। এক বাটি আইসক্রিমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯,৯৯৯ টাকা। একটি স্বচ্ছ কাঁচের বাটিতে এই আইসক্রিম পরিবেশন করা হয়। আইসক্রিমের উপরে ক্রিস্টাল গবলেট এবং সোনার পাতা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এছাড়াও উপরে এডিবল গোল্ড মিশ্রিত সিরাপ ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রায় লক্ষ টাকা মূল্যের এই আইসক্রিম বানাতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে – এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি উপাদানের নাম উল্লেখ না করে হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এভাবে জানানো হয়, “এর মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, কয়েকটি ভিটামিন, জিংক, কপার ও সেলেনিয়ামের পুষ্টিগুণ রয়েছে।”
এই আইসক্রিম একটি প্যাকেজ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। যাতে এই আইসক্রিমের স্বাদ আস্বাদনের পাশাপাশি হোটেল সারিনার ‘লাক্সারিয়াস ইম্পেরিয়াল স্যুটে’ দুজন এক রাত অবকাশ যাপনের জন্য সুযোগ পেয়ে যাবেন। সেই সাথে আরো আছে সকালের নাশতা। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম – এক বাটি আইসক্রিম খেলেই থাকা-খাওয়া ফ্রি।
সাধারণত হোটেল সারিনার ‘লাক্সারিয়াস ইম্পেরিয়াল স্যুটে’ এক রাত থাকতে খরচ পড়ে ৪০ হাজার টাকা।
হোটেল সারিনার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে আইসক্রিমের বিষয়টি সকলে জানতে পারে। পোস্টটিতে বলা হয়, “ঢাকার সবচেয়ে দামি আইসক্রিম পাওয়া যাচ্ছে ৯৯,৯৯৯ টাকায়।”
করোনা পরবর্তী সময়ে এই আইসক্রিমটি যে এমন অভাবনীয় সাড়া ফেলে দেবে তা হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে কল্পনাতীত ছিল। মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এই আইসক্রিমের এতো অর্ডার আসে যে কর্তৃপক্ষ প্যাকেজ অফারটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
এই আইসক্রিম তৈরিতে দুবাই থেকে আনা এক ধরনের ‘সোনালী পাতা’ ব্যবহার করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজারে এই পাতার সংকট দেখা দিয়েছে এবং এই পাতা বর্তমানে না পাওয়ার কারণে হোটেল সারিনা কর্তৃপক্ষ নতুন করে আর কোনো অর্ডার নিতে পারছে না।
এডিবল গোল্ড খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত? শরীরে উপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই বরং ২৪ ক্যারেট এডিবল গোল্ডের অনেকগুলো স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি খাঁটি সোনা হওয়ার কারণে তা রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং সহজেই শরীরের পরিপাকতন্ত্র থেকে তা অপসারিত হয়। শরীরে এটি শোষিত হয় না।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
যেকোনো ধরনের ত্বকে ব্রণের সমস্যা প্রতিরোধ করে।
ত্বকের বলিরেখা এবং কুঁচকানো ভাব কমাতে সাহায্য করে।
সূর্যের পোড়া দাগ কমাতে সাহায্য করে।
ত্বক উজ্জ্বল করে।
শরীরে নতুন কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
