অন্দরের গাছপালার যত্ন


ইশরাত জাহান তৃষা | Published: October 28, 2021 16:33:42 | Updated: October 28, 2021 18:10:20


অন্দরের গাছপালার যত্ন

কংক্রিট আর ধুলোবালির শহর গুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়না নির্মল বাতাস। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে শহরের ভিড় আর কমে যাচ্ছে সবুজ। সবুজের তৃষ্ণা মেটাতে বাগান করার চর্চা এখন বেশ বেড়েছে শহুরেদের মাঝে।

ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়িতে যারা থাকেন তারা মূলত ছাদের অভাবে ব্যালকনি অথবা জানালার ফাঁকে বিছিন্ন গাছপালা- মানি প্লান্ট, ইঞ্চি প্লান্ট, স্নেক প্লান্ট, পার্পল হার্ট, পিস লিলি ইত্যাদি লাগিয়ে থাকেন।

সরাসরি সূর্যের আলো আসেনা এমন বাসার জন্য এ ধরণের অন্দরের গাছ উপযুক্ত। অল্প পরিচর্যায় বেশ সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠে গাছগুলো।

বাসার ভেতরেই গাছ হয়, এজন্য এসব গাছের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতিও একটু ভিন্ন। এমন গাছ বাসায় রাখার বড় সুবিধা হলো - এগুলোর জন্য সরাসরি সূর্যের আলো প্রয়োজন হয় না। পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো বাতাস আছে এমন স্থানে গাছ রাখলেই হয়৷

তাসনিম জেরিন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। গাছের যত্ন নিয়ে তিনি বেশ সচেতন।

অন্দরে রাখা এই গাছগুলোর খুব একটা যত্ন লাগে না। অল্প পরিচর্যাতেই ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তবে অবশ্যই গাছগুলো রাখার জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস সবসময় চলাচল করবে। এমন কিছু কিছু গাছ পানিতেও হয়, কিছু আবার মাটিতেও হতে পারে। তাই আপনি যেটাতে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটা দিয়েই আপনার ঘর সবুজে ভরিয়ে তুলতে পারেন, অন্দরের গাছের সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করেন জেরিন।

অন্দরের গাছপালার যত্ন

অন্দরের গাছের জন্য প্রয়োজন পটিং সয়েল এবং ভালো জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা। পটিং সয়েল তৈরি হয় সাধারণত বাগানের মাটির সাথে চারভাগের একভাগ বালুমাটি ও চারভাগের একভাগ কোকো পিট নিয়ে।

মাটি ভালোভাবে মিশিয়ে ছিদ্রযুক্ত টব বা যেকোনো পাত্রে চারাগাছ রোপণ করতে হবে। বালুমাটি টবে পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করে আর কোকো পিট মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখে, এই গাছগুলোর জন্য যেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

গাছের জন্য টব বাছাই করতে হবে চিন্তা ভাবনা করেই। মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকবে এমন টব বাছাই করে নিতে হবে।

গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। গাছের পাতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে হবে নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া। নাইট্রোজেন গাছে নতুন পাতা গজাতে সাহায্য করে এবং পাতা সবুজ করে।

ফুল পাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে ফসফরাস ও পটাসিয়াম। ফসফরাস ও পটাসিয়াম ফুল দেয়ার পাশাপাশি গাছের শিকড় দুর্বল হওয়া থেকে বাঁচায়। ফুলের রঙ গাঢ় হয় সূর্যের আলো থেকে। সেক্ষেত্রে ব্যালকনি বা জানালার পাশে ফুল হয় এমন গাছ লাগানো যেতে পারে।

গাছের চাহিদাভেদে বিশ থেকে ত্রিশ দিন অন্তর অন্তর সার ব্যবহার করতে হবে। অন্দরের গাছগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়ে থাকে। যদি আট ইঞ্চি টব হয় তাহলে এক চা চামচ পরিমাণ সার যথেষ্ট।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গাছে পরিমাণ মতো পানি দেওয়া। পানিহীনতায় যেমন গাছের পাতা শুকিয়ে যায় তেমনি অতিরিক্ত পানি দেয়ার ফলে পাতা হলুদ হতে থাকে। আবার পানিবদ্ধতার ফলে গাছের শিকড় পঁচে যেতে পারে। এজন্য গাছে পানি দেয়ায় বিশেষ নজর দিতে হয়।

বগুড়ার মাটিডালি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ নার্সারি আছে কুদ্দুস মিয়ার। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্দরের গাছগুলোয় প্রতিদিন পানি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। টবের ওপরের মাটি শুকিয়ে আসলে আবার পানি দিতে হবে। যেটুকু পানি মাটি শোষণ করে নেবে তা যথেষ্ট, এর বেশি পানি না দিলেও চলবে।

অন্দরের গাছপালা শুধু ঘরের সৌন্দর্য বর্ধন নয় বরং ঘরকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ করে। পার্পল হার্ট, পিস লিলি, ল্যাভেন্ডার জাতীয় ফুলদায়ক গাছ ঘরকে মৃদু সুবাসে ভরিয়ে দেয়। একঘেয়ে ব্যস্ত জীবন থেকে কিছু সময় সতেজ-সবুজ গাছের সাথে কাটালে শরীর-মন দুটোই থাকে সুন্দর।

ইশরাত জাহান তৃষা বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যয়নরত।

Israttrishaf3@gmail.com

Share if you like