অন্দরে-বারান্দায় প্রশান্তির সবুজ


শবনম জাবীন চৌধুরী | Published: October 11, 2021 14:57:17 | Updated: October 12, 2021 12:20:28


ছবিঃ সোশ্যাল মিডিয়া

ইট-কাঠ-পাথরের এই রুক্ষ শহরের রাস্তায় চলার সময় ক্লান্ত চোখগুলো যখন কোনো বারান্দায় একটু সবুজের দেখা পায়, নিজের অজান্তেই খুঁজে খানিক প্রশান্তি। এর মাঝে এই সবুজের ছিটেফোঁটা যখন অন্দরের কোণগুলোতেও ঠাঁই পায়, তখন চোখের ও মনের যেন দাওয়াই হয়ে জুড়ে বসে।

অনেকেই চান বারান্দায় ছোট্ট একটি বাগান গড়ে তুলতে। মহামারীতে যখন ঘরে বসে রুদ্ধ জীবন পার করতে হয়েছে, তখন অনেকেই সময় কাটানোর উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাগান করাকে। তবে শুধু বারান্দাই নয়, সবুজের ছোঁয়া আনা যায় ঘরের ভেতরেও।

শখের বাগানে ফুল গাছ সবসময়ই বেশি প্রাধান্য পায়। তবে শাকসবজির গাছের কদরও কিন্তু বেড়েছে। অনেকেই চান বারান্দা থেকে টাটকা শাকসবজি তুলে পরিবার নিয়ে সেই স্বাদ উপভোগ করতে। এতে খুব কম আর্থিক বিনিয়োগে পুষ্টির চাহিদাও মেটে, আবার অতিরিক্ত রাসায়নিক বা কীটনাশকের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও থাকে না।

অবশ্য বাগানের জন্য প্রয়োজন হয় গাছের বিষয়ে মৌলিক কিছু ধারণা। যেমন, কোন গাছ কখন লাগাতে হয়, কোথায় ভালো চারা বা বীজ পাওয়া যায়, কী কী প্রয়োজন হয় গাছের যত্নে, ঘরের ভেতর কোন গাছ দিব্যি সতেজ থাকে এরকম ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বারান্দায় বাগান করার ক্ষেত্রে যে বিষয়টা বেশিরভাগ মানুষকে চিন্তায় ফেলে দেয় তা হলো কীভাবে, কম জায়গায়, নান্দনিকতার সাথে বেশি গাছ লাগানো যায়।

এর একটি কার্যকরী সমাধান হলো ভার্টিকাল (উল্লম্ব) গার্ডেনিং। অর্থাৎ আমরা সাধারণত যেমন বারান্দায় টবগুলো পাশাপাশি রেখে দেই শুধু সেভাবে না রেখে নির্দিষ্ট জায়গা ফাঁকা রেখে ওপরে টব ঝুলিয়ে দিতে হবে। এতে যেমন পুরো বারান্দা সবুজে ভরে উঠবে, তেমনি আপনার বেশি গাছ লাগানোর ইচ্ছাও পূরণ হবে।

ভার্টিকাল গার্ডেনিং এর জন্য অনেকে কাঠ বা স্টিলের শেলফ বানিয়ে নেন। দেয়ালে প্ল্যাংকের ওপর তক্তা বসিয়েও টব রাখা যায়। এতে খরচ আরেকটু কমবে। আর যে পাশে গ্রিল আছে সে পাশ নিয়ে তো কোনো চিন্তাই নেই; গ্রিলের সাথেই টবটা ঝুলিয়ে দেয়া যায়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন আফরা নাওমী, থাকেন রাজধানী ঢাকায়। নিজের বাড়ির বারান্দায় করেছেন শখের বাগান।

নাওমী বলেন, বাগান করার ইচ্ছে আগে থেকেই ছিল কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে হয়ে ওঠেনি। করোনার সময় গুছিয়ে শুরু করেছি। ফেসবুকে বাগান করার বেশ কিছু গ্রুপ আছে। সেগুলোতে অ্যাড হয়েছি। এই গ্রুপগুলো থেকেই জানতে পেরেছি কীভাবে গাছের যত্ন নিতে হয়, মাটিতে কোন কোন সার মেশাতে হয়।

তিনি মনে করেন, ইচ্ছা থাকলে বাগান করা কঠিন কোনো কাজ নয়। তবে ঢাকা শহরে বাড়িগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা লাগানো; তেমন রোদ, আলো আসে না। এ কারণে ঠিকমতো ফুলগাছ হয় না। তাছাড়া বারান্দাগুলো আকারে খুব ছোট হওয়াও একটা সমস্যা।

গাছ দিয়ে ঘরের ভেতরের সৌন্দর্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। মেঝেতে রাখা যেতে পারে, কোনো টেবিলের ওপর রাখা যায়, বা হুকের সঙ্গে টব দেয়ালে ঝুলিয়েও দেওয়া যায়।

মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, স্পাইডার প্ল্যান্ট, স্ট্রিংস অব পার্লস, স্ট্রিংস অব হার্টস, লাকি ব্যাম্বু, অ্যারোহেড প্ল্যান্ট এ ধরনের গাছ ঘরের ভেতরে রাখতে পারবেন। এগুলো সহজে মরে না, সতেজ থাকে দীর্ঘ সময়।

ঘরে গাছ রাখার ক্ষেত্রে টবের নীচে একটা প্লেট দিতে হয় যেন গাছে পানি দেয়ার পর মেঝে নোংরা না হয়। এই প্লেটের পানি অবশ্যই নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

অনেকেই বলেন, গাছ বড় করা আর সন্তান বড় করা একইরকম। একটু আগ্রহ, একটু যত্ন, একটু ভালোবাসা - ব্যাস! এর বিনিময়ে গাছের শ্যামলকান্তি যে প্রশান্তি দিতে পারে, তার তুলনা মেলা মুশকিলই বটে।

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like