অক্টোবরে টিকা রপ্তানি শুরু করবে ভারত


এফই ডেস্ক | Published: September 20, 2021 20:07:56 | Updated: September 23, 2021 17:49:44


অক্টোবরে টিকা রপ্তানি শুরু করবে ভারত

ছয় মাস বন্ধ রাখার পর আসছে অক্টোবর থেকে আবার টিকা রপ্তানি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত।

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মন্দাভিয়া সোমবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন।

এনডিটিভি লিখেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার ঠিক আগের দিন টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তোলার এ ঘোষণা এল। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে মোদীর আলোচনায় টিকা প্রসঙ্গও উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় হিমশিম খাওয়া ভারত এ বছরের এপ্রিলে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ বিপাকে পড়ে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদক দেশ ভারতের ওই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

ভারত সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটির ৯৪ কোটি ৪০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের সবাইকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে; দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের ৬১ শতাংশ এরই মধ্যে টিকার অন্তত একটি ডোজও পেয়ে গেছেন।

মনসুখ মন্দাভিয়া বলেন, ভারত সরকার উদ্বৃত্ত টিকা থেকে রপ্তানির পাশাপাশি আগের মত অনুদানও দেবে। আর এক্ষেত্রে প্রতিবেশীরাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

তিনি জানান, ভারতে এখন দৈনিক টিকা উৎপাদনের পরিমাণ এপ্রিলের দ্বিগুণেরও বেশি। আগামী মাসে তা চারগুণ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টিকা উৎপাদন করে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইনডিয়া। এ কোম্পানি থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কোভিশিল্ডকিনতে গত বছরের নভেম্বরে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ৬০০ কোটি টাকার বেশি অগ্রিম হিসেবে দেয় সরকার, যা টিকার মোট দামের অর্ধেক।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা ছিল। গত ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসে বাংলাদেশে।

পাশাপাশি ভারত সরকারের উপহার হিসেবে ২১ জানুয়ারি আরও ২০ লাখ ডোজ এবং ২৬ মার্চ ১২ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড পেয়েছে বাংলাদেশ।

মার্চে ভারতে করোনাভাইরাস মহামারী চরম আকার ধারণ করলে সেদেশের সরকার এপ্রিলে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এদিকে পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ করে দিতে হয়। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত চীন থেকে সিনোফার্মের টিকা কেনার জন্য সরকার চুক্তি করে। সেই টিকার পাশাপাশি টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও টিকা আসছে এখন। সেই টিকা দিয়েই এখন আবার সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি চলছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারত সফর করে এসে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, সেরাম ইনিস্টিটিউট উৎপাদন বাড়াতে না পারায় বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী টিকা পায়নি। অক্টোবরের শেষ দিকে এ প্রতিবন্ধকতা কেটে যেতে পারে বলে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন।

Share if you like