করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ভারতের বাইরেও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে সেরাম ইন্সটিটিউট অব ইনডিয়া (এসআইআই)। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
এসআইআই প্রধান নির্বাহী আদর পুনাওয়ালা শুক্রবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসকে এ তথ্য জানান।
তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, “কয়েক দিনের মধ্যেই এবিষয়ে ঘোষণা আসবে।”
জুলাইয়ের মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা উৎপাদন মাসে ১০ কোটি ডোজে উন্নীত করতে পারবে বলে গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন পুনাওয়ালা।
এর আগে উৎপাদন বাড়াতে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত একটি সময়সীমা জানানো হয়েছিল।
ছয় মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টিকা উৎপাদন সক্ষমতা ২৫০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২৩ এপ্রিল ভারতীয় নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির আগেই আদর পুনওয়ালা ব্রিটেনে পৌঁছেছেন বলেও দ্য টাইমসের খবরে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ভারতে টানা নয়দিন ধরে দৈনিক তিন লাখেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন।
শনিবার বিশ্বের সব দেশের পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে রেকর্ড চার লাখের বেশি কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।
মহামারীর ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে টিকার শনিবার থেকে করোনাভাইরাস টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে।
তবে করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে মুমূর্ষু ভারতের অনেক রাজ্যেই এখন টিকার মজুদ নেই।
১৫ এপ্রিল থেকেই দেশটিতে দৈনিক দুই লাখের বেশি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া শুরু করে। এক সপ্তাহ আগে দৈনিক সংক্রমণ তিন লাখের ঘর ছাড়িয়ে যায়।
আক্রান্ত আর মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্যের সংকট তৈরি করায় ভারত সরকার বিদেশ থেক অক্সিজেন, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস সংগ্রহের চেষ্টা করতে বাধ্য হয়।
রয়টার্স জানায়, দেশটিতে মে মাসের তিন থেকে পাঁচ তারিখ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সর্বোচ্চ হতে পারে জানিয়ে ভারত সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
বেশ কজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, সংক্রমণের হার দৈনিক ১০ হাজার থাকার সময় করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে মনে করে আত্মতুষ্ট হয়েছিল ভারত। বিধিনিষেধ তুলে উৎসব এবং রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমোদন দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
