বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ যাই থাক, প্রয়োজনে অর্থের যোগান দিতে কোনো ‘সমস্যা হবে না’ বলে আশ্বাস এসেছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে।
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, এক বছরে সরকার যত মানুষকে টিকা দিতে পারবে, সেই টাকার বরাদ্দ বাজেটে আছে।
আর কৃষি মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রয়োজনে অন্য খাত থেকেও টাকা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে দেওয়া যাবে, এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন।
মহামারীর মধ্যে তার এ বাজেটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
পাশাপাশি ‘মহামারীকালে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে’ ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহমারীর বাস্তবতায় স্বাস্থ্যের এই বরাদ্দ প্রত্যাশা কিংবা প্রয়োজন, কোনোটার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের জন্যও কোনো দিক নির্দেশনা তারা বাজেটে পাননি।
বাজেটের পরদিন অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন একজন সাংবাদিক। অর্থমন্ত্রী অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে এ বিষয়ে উত্তর দিতে অনুরোধ করেন।
আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, স্বাস্থ্য খাতে গত বছরের মূল বাজেটে যে বরাদ্দ ছিল, এবার তা ১৩ শতাংশের মত বেড়েছে।
“বরাদ্দ নিয়ে কোনো সমস্যা নাই। এক বছরে যে টিকা আমরা দিতে পারব, তার চেয়ে বেশি টাকা বরাদ্দ আছে। সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রয়োজনে অন্য খাত থেকেও নেওয়া যাবে।
আর স্বাস্থ্যখাতে কেনাকাটায় স্বাচ্ছ্বতা আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব।
এ সময় কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “যে কোনো খাত থেকে টাকা নিয়ে এই খাতে (স্বাস্থ্য) দেওয়া যাবে। অর্থের কোনো সমস্যা নাই।”
প্রধানমন্ত্রী ও সরকার এ বিষয়ে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির এখন যা অবস্থা তাতে মহামারী মোকাবেলায় অর্থ ‘কোনো সমস্যা নয়’। সরা বিশ্ব যেভাবে মোকাবেলা করছে, বাংলাদেশও তা করবে।
গতবছরের মত এবারও বাজেটের পরদিন অর্থমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় অনলাইনে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এনবিআর চেয়ারম্যান ও সচিবরাও তাতে যুক্ত ছিলেন।
