Loading...

২৩ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়লো বাংলাদেশ ব্যাংক

| Updated: April 21, 2022 17:28:21


২৩ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়লো বাংলাদেশ ব্যাংক

ঈদ সালামির জন্য বুধবার বাজারে বেশ কিছু নতুন চকচকে ব্যাংকনোট ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আসন্ন পবিত্র ইদ-উল-ফিতর এবং ঈদ সালামির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মানুষ সাধারণত প্রিয়জনকে নতুন নোট উপহার দিয়ে থাকে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন নোটের যোগান দিয়ে সবাইকে ঈদ উদযাপনে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বাজারে ২৩ হাজার কোটি টাকার ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকার নোট ছেড়েছে।

ঈদের সময় এলেই সালামি ঐতিহ্যের কারণে ঢাকা শহরে নতুন নোটের ব্যবসায় রমরমা দেখা যায়। তাছাড়া, গুলিস্তান এলাকায় রাস্তার আশেপাশে সারা বছরই নোট-পরিবর্তনের দোকান বসে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা ছেঁড়া-ময়লা নোটের বিনিময়ে নতুন নোট বিক্রি করে থাকেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন যে এবার ঈদে নতুন নোটের চাহিদা গত দুই বছরের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ঢাকায় প্রতিদিন এখন ১ কোটি টাকার নোট বিক্রি হচ্ছে। ইদের তিন-চারদিন আগে এই সংখ্যা ৩-৪ কোটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টাকা ব্যবসায়ীরা মূলত মানুষের কাছ থেকে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ছেঁড়া ও ত্রুটিপূর্ণ নোটগুলো কিনে নেয়।

এছাড়াও তারা ঈদের আগে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ রেখে নতুন টাকার বান্ডিল বিক্রি করে থাকে।

মতিঝিল অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পার্শ্বস্থ গুলিস্তান এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নতুন নোট কিনতে জড়ো হয়েছেন।

কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাকেও দেখা গেছে মতিঝিল রেগুলেটরের কাছে নতুন টাকা নিয়ে বসতে। অন্যরা বসে ছিলেন গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের সামনে।

বেসরকারি চাকরিজীবী জামাল গুলিস্তানে এসেছিলেন নতুন নোট কিনতে। তিনি জানান যে গত রোববার তিনি ৫০ টাকার একটি বান্ডিল অতিরিক্ত ১৫০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

তিনি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, “আমি যদি ব্যাংক থেকে এই নোটগুলো নিতাম, তাহলে অতিরিক্ত কোনো টাকা দিতে হতো না। কিন্তু ঈদের আগমুহূর্তে ব্যাংক থেকে নোট সংগ্রহ করা বেশ সময়সাপেক্ষ আর কষ্টকর মনে হয়।”

৩৫ বছর বয়সী গাড়িচালক মুহাম্মদ আলী গুলিস্তানে এসেছেন একই কাজে। তিনি জানান যে প্রিয়জনদের জন্য তিনি একটি ১০০ টাকার বান্ডিল কিনেছেন।

তিনি বলেন, “নতুন নোট ঈদের সালামি হিসেবে পেলে বাচ্চাদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়।”

মতিঝিল অঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন যে তারা বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে এসব নতুন নোট সংগ্রহ করে থাকেন।

আল আমিন খন্দকার গত ৩০ বছর ধরে মতিঝিলে টাকার ব্যবসা করছেন। তিনি জানান যে এ বছর নতুন নোটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি এ-ও বলেন, ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোটের চাহিদা অনেক বেশি এবং গত রোববার পর্যন্ত তিনি প্রতিদিন ১ লাখ টাকার লেনদেন করছিলেন।

ইদের আগমুহূর্তে তার বেচাবিক্রি আরো অনেকটাই বাড়বে বলেও জানান তিনি।

এভাবে নোট বিক্রি করা বেআইনি, একথা স্বীকার করেও তিনি বলেন যে তারা এই ব্যবসায় গত ৫০ বছর ধরে বহাল তবিয়তে আছেন।

জনাব খন্দকার আরো বলেন, “যারা ব্যাংক থেকে নোট সংগ্রহ করতে পারে না, তারা আমাদের কাছে এসে কিনে নিয়ে যায়।”

গুলিস্তানের ৪১ বছর বয়সী আরেক বিক্রেতা ইমদাদ ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রতিনিধিকে জানান যে তিনি গত ১৬-১৭ বছর ধরে ফুটপাতে বসে নতুন টাকার ব্যবসা করছেন।

তিনি বলেন, “ঈদ যত এগিয়ে আসছে, নোট বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে।” তিনি এ-ও জানান যে ২০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নোট ছাড়ার পর এই চাহিদা আরো অনেক বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান যে ২০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৩ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য নতুন নোট ছাড়া শুরু করবে।

তিনি জানান, “৩২টি ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নোট ছাড়ার কাজটি করবে।”

কোভিড-১৯ মহামারির পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকা সদর দপ্তরে নোট অদলবদলের জন্য বিশেষ বুথের ব্যবস্থা ছিল।

Share if you like

Filter By Topic