কোভিড মহামারীর ভিন্ন পরিস্থিতিতেও বেশির ভাগ ব্যাংক ভালো মুনাফা দেখিয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে ২৬টি এখন পর্যন্ত ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে, যেগুলোর মধ্যে ২০টির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
ঈদের ছুটি শুরুর আগে শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৬টি ব্যাংক সবশেষ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে লভ্যাংশও ঘোষণা করে। এসব তথ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ব্যাংকাররা বলছেন, মহামারীর ক্ষত কাটিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়ানোতে ব্যাংকের ব্যবসা ভালো হয়েছে। বড় গ্রাহকদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশিত বিভিন্ন নীতি সুবিধা দেওয়ার পরও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ায় আয় বেড়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে মুনাফায়।
দেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। এগুলোর মধ্যে ৩৩টি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত।
তালিকাভুক্ত এসব ব্যাংকের মধ্যে লভ্যাংশ ও মুনাফা ঘোষণা করা ২৬টির মধ্যে ২০টির শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) আগের বছরের তুলনা বেড়েছে। অন্যদিকে পাঁচটির ইপিএস কমছে এবং একটির লোকসান আগের চেয়ে কমেছে।
এসব ব্যাংকের মধ্যে মধ্যে নগদ ও বোনাস মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪ শতাংশ নগদ ও ১৪ শতাংশ স্টক মিলিয়ে ২৮ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে উত্তরা ব্যাংক।
অপরদিকে সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক- ৩ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ স্টক।
আর লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক বরাবরের মত লভ্যাংশ দেয়নি।
যেসব কারণে বেড়েছে মুনাফা
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ক্রমে কমে আসায় ২০২১ সালে ব্যবসা বাণিজ্য আগের ধারায় ফিরতে শুরু করায় অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে ব্যাংকগুলোর আয় বেড়েছে, যা মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।
তবে তারা ২০২২ ও ২০২৩ সালকে ব্যাংকগুলোর জন্য পরীক্ষার বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, মহামারীর ক্ষতি সামলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ায় ব্যাংকগুলোর আয় বেড়েছে। এতে ভালো মুনাফা দেখাতে পারছে। তবে সামনের দিনগুলো কেমন হবে তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন বর্তমানে ব্যবসায়ীদের অনেক ধরনের প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে- যেমন, টাকা দিতে না পারলেও ঋণ শ্রেণিকরণ করা যাবে না। এসব নীতির কী প্রভাব ব্যাংকের উপর পরে সেটা দেখার বিষয়। এর পুরো প্রভাব বুঝতে হলে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,ব্যাংকগুলো ভালো লভ্যাংশ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা চিন্তায় আছি টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে।
করোনাভাইরাস মহামারীর জন্য ব্যবসায়ীদের যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল সেটার একটি পর্যায় শেষ হয়ে গেছে। এখন গ্রাহকদের ব্যাংকগুলোকে টাকা ফেরত দেওয়ার বোঝা যাবে কী হয়। এজন্য ২০২২ ও ২০২৩ সাল ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বড় পরীক্ষার বিষয়।
এদিকে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মুনাফা বাড়লেও বেশির ভাগ ব্যাংকের নগদ অর্থ প্রবাহ কমে গেছে আগের বছরের তুলনায়। তবে এটি তেমন সমস্যার কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকাররা।
এমটিবি এমডি বলেন, ব্যাংকগুলোর জন্য নগদ অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি খুব বেশি সমস্যার না। অনেক সময় ব্যাংকগুলো পাওনা দেরিতে পায়।
ইবিএল এমডিও এতে সমস্যার কিছু দেখছেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরেন একটি ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার বন্ড কিনতে পারে। আবার ১০০ কোটি টাকা একটি ব্যাংকে রাখতে পারে। এ বিনিয়োগগুলো কিন্তু তরল। এ ধরনের বিনিয়োগের কারণে ব্যাংকের নগদ অর্থপ্রবাহ ঋণাত্বক হয়ে যেতে পারে, তবে এটা সমস্যার বিষয় নয়।
এক নজরে ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ও শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস)