Loading...
The Financial Express

১৯ দিন বন্ধ থাকার পর শপিং মল খুলেছে, কিন্তু ক্রেতা মেলেনি

| Updated: August 12, 2021 15:18:32


১৯ দিন বন্ধ থাকার পর শপিং মল খুলেছে, কিন্তু ক্রেতা মেলেনি

মহামারী নিয়ন্ত্রণের লকডাউনে ১৯ দিন বন্ধ থাকার পর শপিং মল খুলে দেওয়া হলেও ক্রেতা না পাওয়ার কথাই বলেছেন বিক্রেতারা।

বুধবার ঢাকার বিভিন্ন শপিংমলে ঘুরে পোশাক, ইলেক্ট্রনিক্সসহ অন্যান্য দোকানের বেশিরভাগই ফাঁকা দেখা গেছে। বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় পার করছিলেন।

বিক্রেতারা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ ভয়াবহ হয়ে ওঠায় ক্রেতা অনেক কম দেখা যাচ্ছে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের ছেলেদের পোশাকের দোকান ‘লিন্ড’র বিক্রয় কর্মী সাহরিমান মুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালের দিকে কাস্টমার একবারেই ছিল না। বিকেলের দিকে কাস্টমার টুকটাক আসছে, দেখছে কেউ কিনছে আর কেউ দেখে চলে যাচ্ছে। বলতে গেলে বেচাকেনা একবারেই কম।”

এই শপিংমলের ‘মাতৃভূমি ফ্যাশন’র বিক্রয় কর্মী ফারদিন মাহমুদ দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনও বেচাবিক্রি নেই। বিকালের দিকে হয়তবা বাড়বে। তাছড়া সকালে বৃষ্টির কারণেও লোকজন কম।”

যারা কেনাকাটায় এসেছিলেন, তাদেরও যাওয়ার তাড়াই বেশি দেখা গেছে।

নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার আরেক বন্ধুকে নিয়ে আসেন বসুন্ধরা শপিং মলে। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কিছু জামাকাপড় কেনা জরুরি হয়ে গেছে, তাই দেরি না করে চলে আসলাম। দ্রুত কেনাকাটা করে চলে যাবো। করোনাভাইরাসের অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ, বাইরে এমনিতেই বের হই না।”

কোরবানির ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে শুরু হয় লকডাউন; তা তুলে নিয়ে বুধবারই দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

রাজধানীর বড় এই বিপণি কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জীবাণুনাশক টানেলের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য তত্বাবধায়ক নিয়োগ দিয়েছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। তারা প্রত্যেকটি ফ্লোরে ঘুরে ঘুরে পাহারা দিচ্ছেন।

আলমগীর নামের একজন তত্বাবধায়ক বিডিনিউজ টেয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা মূলত স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি না, সেটা দেখছি। সেটা ক্রেতা-বিক্রেতা যেই হোক না কেন। বিক্রেতাদের প্রথম ওয়ার্নিং দিই। তারপরেও কেউ স্বাস্থবিধি না মানলে কিংবা মাস্ক না পড়লে দোকান বন্ধ করে দিই।”

‘আইফোন সেল্স’ নামের একটি দোকানের মালিক অসীম কুমার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা প্রথমে ওয়ার্নিং দেয়, পরে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়।”

মালিবাগের মৌচাক মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আবু রায়হান বলেন, “মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে, তাই লোকজন বেশি আসতেছে না। যাদের বেশি প্রয়োজন আসছে। আজকে ক্রেতা নেই, কাল থেকে বাড়বে মনে হচ্ছে।”

হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজার শাড়ির দোকান ‘নীল আঁচল’র বিক্রয়কর্মী মো. রাজু বলেন, “সকাল থেকে চারজনের কাছে বিক্রি করেছি। আজকে এতদিন পর দোকান খুলেছি, কাস্টমার নেই। আবার কখন কাস্টমার আসবে, সেই আসায় বসে আছি।”

হাতিরপুলের ‘মোতালেব প্লাজা’য় মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে কিছুটা ভিড় দেখা গেলেও অন্যান্য দোকানে ক্রেতা একবারেই কম ছিল।

তিন তলার ‘মোবাইল মেকার’ নামের একটি সার্ভিসিং দোকানের কর্মী সালমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকের মোবাইলে সমস্যা দেখা দিলেও মার্কেট বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন কেউ আসতে পারেনি। আজকে মার্কেট খুলেছে বলে মোবাইল ঠিক করতে অনেকেই এসেছে।”

দীর্ঘ লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় বড় সমস্যায় পড়ার কথা জানান ইস্টার্ন প্লাজার মেয়েদের পোশাকের দোকান ‘ফাল্গুনী’ মালিক মো. মিরাজ।

তিনি বলেন, “চরম বিপদে আছি। দোকানে যারা কাজ করে, তাদের বেতন দিতে হয়, দোকান চললেও বেতন দিতে হয়, না চললেও দিতে হয়। দোকান ভাড়া কিন্তু কম নেয় না।

“লকডাউনে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের, এটা সরকারের ভাবা উচিৎ। এই অবস্থা থাকলে পথে নামতে হবে।”

Share if you like

Filter By Topic