Loading...
The Financial Express

১৮ বছর পর ইরাক অভিযানের সমাপ্তি টানছে যুক্তরাষ্ট্র

বাইডেন-কাধিমির চুক্তি সই


| Updated: July 27, 2021 15:52:00


হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সোমবার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাধিমি হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সোমবার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাধিমি

ইরাকে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের সমাপ্তি টানতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনারা দেশটিতে পা রাখার ১৮ বছর পর এ বছরের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান গুটিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাধিমির মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তিও হয়ে গেছে।

পূর্বসূরী জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হয়েছিল।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরই বাইডেন এই দুই বড় রণাঙ্গনের একটি আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারে উদ্যোগী হন। এ বছরের অগাস্টের শেষ দিকে আফগান ভূখণ্ড ত্যাগ করার কথা মার্কিন সেনাদের।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে কৌশলগত আলোচনার অংশ হিসেবে সোমবার ওভাল অফিসে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন বাইডেন ও কাধিমি। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

বৈঠকের পর বাইডেন বলেন, “ইরাকে আমাদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ, আইএসকে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে, তবে এ বছরের শেষ নাগাদ সেখানকার যুদ্ধে আমরা আর থাকছি না।”

বর্তমানে ইরাকে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে, যারা মূলত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযানেই ব্যস্ত। সেই ভূমিকা থেকে সরে এসে শুধু ইরাকি বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং তাদের সুরক্ষা বিষয়ক পরামর্শ দেওয়ায় মনোযোগী হবে যুক্তরাষ্ট্র।

অবশ্য ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটি যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই।

ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেনের সরকার ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলেছে, এমন অভিযোগ তুলে ২০০৩ সালে দেশটিতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনী। এরপর সাদ্দামকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হলেও সেসব অস্ত্রের হদিস আজ পর্যন্ত মেলেনি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ভূমিকাও বদলে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে।   

কাধিমির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে দেশটির একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, অভিযান সফল হয়েছে এমন ঘোষণা কেউই দিতে যাচ্ছেন না, কারণ লক্ষ্য হচ্ছে আইএসকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা।

“আমরা কোথায় ছিলাম, অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো কিভাবে লড়েছে, কোন সময়টাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়েছে, সেদিকে দৃষ্টি দিলেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পড়বে। তাই আমরা মনে করি এ বছরের শেষ নাগাদ সত্যিকার অর্থেই ভালো একটা অবস্থানে থাকব, যেখান থেকে আমরা পরামর্শমূলক এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শুরু করতে পারব।”

তবে পরামর্শমূলক এবং প্রশিক্ষণের জন্য কত সংখ্যক মার্কিন সেনা ইরাকে থাকবে তা জানাননি ওই কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরাকের যৌথ বিবৃতিতে স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ আরও বেশকিছু অসামরিক চুক্তির বিষয়ও থাকবে বলে আশা হচ্ছে।

কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজার-বায়োএনটেকের কেরানাভাইরাসের টিকার পাঁচ লাখ ডোজ ইরাকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বাইডেন জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব টিকা ইরাকে পৌঁছাবে।

এছাড়া অক্টোবরে ইরাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের তহবিলে ৫২ লাখ ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

Share if you like

Filter By Topic