Loading...

হাসপাতাল বেসামাল, এখন কোভিড রোগী কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

| Updated: August 07, 2021 18:46:02


হাসপাতাল বেসামাল, এখন কোভিড রোগী কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের হাসপাতালগুলো আর রোগীর চাপ নিতে পারছে না। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এই পরিস্থিতি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, “সময় এসেছে করোনাভাইরাসের রোগী কমানোর।”

শনিবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেশন হলে কোভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

কোভিড-১৯ মহামারীর দেড় বছরে এখনই সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। গড়ত চার দিনেই এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এত কম সময়ে এত বেশি মৃত্যু আর কখনও ঘটেনি।

মৃত্যুর সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। কিছু দিন ধরেই দিনে ১২ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা শহরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার করোনাভাইরাসের বেডের মধ্যে এক হাজার বেডও খালি নেই, এই অবস্থায় আমরা আছি।”

তিনি জানান, ঢাকার সরকারি হাসপাতালে ৮০০ আইসিউ শয্যা, আর বেসরকারি মিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ আইসিইউ শয্যা রয়েছে। সারা দেশে ১৭ হাজার শয্যা এখন কোভিড রোগীদের জন্য।

“আমাদেরকে নন কোভিড চিকিৎসাও বজায় রাখতে হচ্ছে। নন কোভিড রোগীই আশি ভাগ। পাশাপাশি ডেঙ্গু এসে ঘাড়ে বসেছে,” বলেন জাহিদ মালেক।

কোভিডে এখন নারীদের আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

“আগে মহিলাদের মৃত্যু এবং আক্রান্ত কম ছিল, প্রায় ২০-২৫ ভাগ, এটা এখন প্রায় ৪৫ পার্সেন্ট। মহিলাদের আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কেন বাড়ছে, এটা আমাদের খেয়াল করতে হবে।”

রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হাসপাতালের উপর কেমন চাপ ফেলছে, তা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “গত দুই মাসের তুলনায় রোগী সাত গুণ বেড়েছে। ডাক্তাররা কাজ করছে, আমরা টিকার কাজ করছি, ফিল্ড হাসপাতাল আমরা বাড়িয়ে চলছি, বেড বাড়িয়ে চলছি, কিন্তু তারও একটা সীমা আছে। কতটুকু আর করা যেতে পারে?

“ভাইয়েরা এখন সময় এসেছে রোগী কমানোর। করোনা রোগী কমানোর। হাসপাতালের বেড বাড়ানো নয়, রোগী কমানোর সময় এসেছে।”

“সংক্রমণ কিন্তু হাসপাতালে হয় না, ক্লিনিকে হয় না। সংক্রমণ কোথায় হচ্ছে আপনারা জানেন। রাস্তাঘাটে হচ্ছে, দোকানপাটে হচ্ছে, ফেরিতে হচ্ছে, ফ্যাক্টরিতে হচ্ছে, গ্রামে-গঞ্জে হচ্ছে। ডাক্তার-নার্সরা তো আর বাস কনট্রোল করতে পারবে না, ফেরি কনট্রোল করতে পারবে না, ফ্যাক্টরি কনট্রোল করতে পারবে না।”

ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনাভাইরাসের গণ টিকাদান শুরুর দিন শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিকা নিতে আসেন অশীতিপর দুই বৃদ্ধা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনাভাইরাসের গণ টিকাদান শুরুর দিন শনিবার রাজধানীর

সংক্রমণ কমাতে টিকার উপর জোর দিয়ে তার বন্দোবস্তে সরকারির প্রচেষ্টাও তুলে ধরেন জাহিদ মালেক।

এখন নাগাদ দেড় কোটি জনকে প্রথম ডোজ এবং ৫০ হাজার জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “টিকার ব্যবস্থা আমরা প্রতিনিয়ত বাড়ানোর চেষ্টা করছি। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে আমরা টিকার খোঁজ নেই নাই।

“আপনারা জানেন চায়নার সঙ্গে টিকা আনার ব্যপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। আমরা ইতোমধ্যে ছয় কোটি টিকা আনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি। অর্থাৎ আগের যে দেড় কোটি টিকা কনফার্ম ছিল, তার সঙ্গে আরও ছয় কোটি, অর্থাৎ সাড়ে সাত কোটি টিকা আমরা চায়না থেকে আনার চেষ্টা করছি।”

“আমরা আশা করি নভেম্বরের মাধ্যে প্রতিমাসেই প্রায় সমহারে আমরা পেয়ে যাব। সিনোফার্ম যদি কমিটমেন্ট ঠিক রাখে, তাহলে নভেম্বরে দুই কোটি, অক্টোবরে দুই কোটি … অগাস্টে আমরা হয়ত একটু কম পাব।”

বৃদ্ধ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

“আমরা টিকাকে গ্রামে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। গ্রামের দরিদ্র বয়স্ক লোক যারা আছে তারা অনেকের মধ্যেই আগ্রহ কম, তাই আমরা টিকা তাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। গ্রামের মুরব্বি, গ্রমের মহিলা, প্রতিবন্ধীদের আগে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।”

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেশন হলে কোভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতালে ৪০০ সাধারণ শয্যা ও ৪০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখানে নতুন রোগীই শুধু ভর্তি করা হবে। আর বেশি ভর্তি করা হবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের।

 

Share if you like

Filter By Topic