Loading...

হাজতে পাপিয়ার সঙ্গে ‘বৈঠকে’ দুই যুবক

| Updated: February 07, 2022 10:35:04


হাজতে পাপিয়ার সঙ্গে ‘বৈঠকে’ দুই যুবক

পুরান ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের নারী হাজতখানায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে দুই যুবক ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নিচ তলায় হাজতখানার ড্রেসিং রুমে এ বৈঠক চলাকালে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই যুবক সটকে পড়েন।

ঘটনা জানাজানি হলে হাজতখানার ইনচার্জ নৃপেন কুমার বিশ্বাস পাপিয়াসহ তিনজনকে সতর্ক করেন। 

আদালতের অনুমতি ছাড়া এভাবে কোনো আসামির সঙ্গে বৈঠক করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে বলেন, “ওই দুইজন আমাদের স্পেশাল গেস্ট।” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এদিন ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের কথা ছিল।

সকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে এনে দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পর তাদের এজলাসে তোলা হয়। এ মামলায় সাক্ষ্য দিতে দুই সাক্ষীও আদালতে হাজিরা দেন।

তবে বিচারক অসুস্থ হওয়ায় এদিন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। ভারপ্রাপ্ত বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ১৬ মার্চ ঠিক করেন। পরে আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বেলা ১টার দিকে হাজতখানার সামনে আদালতপাড়ার সাংবাদিকরা দেখতে পান, পাপিয়া নারী হাজতখানার ড্রেসিং রুমে একটি বেঞ্চে বসে আছেন। তাকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। তার সামনে দুই যুবক বসে আছেন।
পাপিয়া কফি পান করছেন আর তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। দরজায় তালা দিয়ে নারী পুলিশ সদস্যদের পাহারা দিতেও দেখা যায়।

বিষয়টি টের পেয়ে হাজতখানার ইনচার্জ নৃপেন কুমার বিশ্বাস সেখানে প্রবেশ করেন। পাপিয়াসহ তিনজনকে সতর্ক করেন তিনি।


এরপর সেখান থেকে বের হয়ে এসে নানা কথা বলে সাংবাদিকদের ‘বোঝানোর’ চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন।

তখন কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলে যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়াকে সেখান থেকে বের করে নারী হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর তার সঙ্গে বৈঠক করা দুই যুবক বের হন।

তাদের পাপিয়ার সঙ্গে কী সম্পর্ক- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে কেউ কোনো উত্তর দিতে চাননি। পরে একজন নিজেকে রাসেল বলে পরিচয় দিয়ে পাপিয়া তার বোন বলে দাবি করেন। কেমন ভাই, জানতে চাইলে তিনি কিছু না বলে ওই স্থান ছেড়ে চলে যান। অপর যুবক এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি।

এ বিষয়ে হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাকিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, “আমি এটা শুনেছি মাত্র। আমি সেসময় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি রাজনৈতিক মামলার আসামিদের দেখভাল করছিলাম।”

গেল ৩০ নভেম্বর পাপিয়াকে এজলাস কক্ষেই খেতে দেখা গিয়েছিল। যদিও এজলাস কক্ষে হাজতি বা কয়েদীর কিছু খেতে হলে বিচারকের অনুমতি নিতে হয়।

সেদিন মুঠো ভর্তি বাদাম, চানাচুর খাওয়ার পর বোতল থেকে পানিও পান করতে দেখা যায় পাপিয়াকে। এজন্য এজলাস কক্ষের পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যকে ‘টিপস’ দিতে দেখা যায় তার লোকজনকে।

Share if you like

Filter By Topic