Loading...

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হইচই

| Updated: July 01, 2021 11:42:35


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হইচই

স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যাবস্থাপনা, নিয়োগ না হওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্যে হইচই হয়েছে সংসদে।

বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে মন্ত্রী বলেন, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে, শুধু ঢালাও অভিযোগ করলে হবে না।

বুধবার সংসদে বাজেট পাসের সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির তিনটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হল আইন মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যরা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর তাদের বক্তব্য দেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, “কতবার ডিও (ডেমি অফিশিয়াল) লেটার দেব? আমার এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নেই, ডাক্তার কবে পাব? এক্সরে মেশিন কবে পাব? রেডিওলজিস্ট কবে পাব? স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যতবার বলি, উনি ডিও লেটার দিতে বলেন। কতবার দেব?”

জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টাকা খরচ করতে পারেনি। ফেরত দিয়েছিল। এটা আমরা চাই না। খরচ করতে না পারলে এখানে ৩৫০ জন এমপিকে ভাগ করে দেন। আমরা খরচ করি। স্বাস্থ্য সেবা আমরা দেখব। আপনাদের দরকার নেই। ডাক্তার-নার্স নিয়োগ করতে পারছেন না। ৩৫০ এমপিকে দায়িত্ব দেন। আমরা নিয়োগের ব্যবস্থা করি।”

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এই যে বরাদ্দ দিচ্ছি সেটা কোথায় যাচ্ছে? বরাদ্দ খরচ করার সক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের আছে কী না সেই প্রশ্ন চলে আসছে।”

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, “স্বাস্থ্য খাত সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি দূর করতে হলে ডালপালা কেটে লাভ নেই। গাছের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।

বিএনপির মোশাররফ হোসেন, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, মুজিবুল হব চুন্নুও স্বাস্থ্যের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সংসদে তুলে ধরেন। এছাড়া করোনাভাইরাসের টিকা সঙ্কট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

পরে জবাব দিতে উঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যদের বলেন, “সব এমপিরা তো হাসপাতালের চেয়ার। উন্নয়ন কমিটির সাথে আমরা জড়িত। আপনারা প্রত্যেকে দায়িত্বে আছেন। এই বিষয়গুলো আপনাদেরই দেখার কথা। মেশিন চলে না। লোক লাগবে। এগুলো তো আপনাদের দেখতে হবে।

“কিন্তু আপনারা তো সেটা দেখেন না। নার্স, ডাক্তার বা যন্ত্রপাতি লাগলে তো আপনাদের বলতে হবে। শুধু অভিযোগ দিলে তো হবে না। যা যা প্রয়োজন আছে তার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু চেয়ারম্যান হিসেবে এগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের ওপর বর্তায়।”

এ সময় বিরোধী দলের বেঞ্চ থেকে হইচই শুরু হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সদস্যরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটু থেমে গেলে সামনে বসা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী তাকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে ইশারা করেন।

তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটু থেমে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “সব লকডাউন। আপনারা কেউ তো বাইরে (দেশের বাইরে) যেতে পারননি। সেবা কোথায় নিচ্ছেন? সব বাংলাদেশের হাসপাতালেই সেবা নিচ্ছেন। যেতে তো পারছেন না কোথাও। হাসপাতাল সেই সেবা দিতে পারে বিধায় আপনারা সেবা নিচ্ছেন। ভালো আছেন।”

মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, “দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে হবে। মাস্কের কথা বলছেন- সেই মাস্ক কোনোদিনই কেনা হয়নি। পেমেন্ট করা হয়নি। রিসিভ করা হয়নি। কিন্তু মাস্কের কথা আসছে।

“ভালো করে খতিয়ে দেখে সঠিক কথাটি বলবেন। সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে। ঢালাওভাবে অনিয়মের কথা বললে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুনির্দিষ্ট বলতে হবে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে।”

এ সময় বিরোধী দলের দিকে থেকে আবার হইচই শুরু হলে মন্ত্রী বলেন, “সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে। ঢালাওভাবে বললে হবে না।”

তাতে হইচই চলতে থাকলে মন্ত্রী বিরোধী দলের সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না বলে জানান।

Share if you like

Filter By Topic