সেপ্টেম্বরের রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি


FE Team | Published: October 04, 2021 19:13:30 | Updated: October 05, 2021 11:23:39


সেপ্টেম্বরের রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি একক মাস হিসেবে অগাস্টে ইতিবাচক ধারায় ফেরার পর সেপ্টেম্বরে আরও অনেক ভালো করেছে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

একক মাসে রপ্তানি পণ্য থেকে আয়ের এমন উল্লম্ফনে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের সার্বিক রপ্তানি নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এসময়ে মোট এক হাজার ১০২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় এসেছে। ২০২০-২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে যা ছিল ৯৮৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে ৪১৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এই অংক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯ শতাংশ এবং আগের বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর সেপ্টম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর ২০২০-২১ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে আয় এসেছিল ৩০১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

একক মাসের হিসাবে বিশাল এ প্রবৃদ্ধি দেশের সার্বিক রপ্তানিকে নিয়ে এসেছে প্রবৃদ্ধির ধারায়।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ পিছিয়ে ছিল। অগাস্টে একক মাস হিসেবে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হলেও সার্বিক রপ্তানি নেতিবাচক ধারা থেকে বের হতে পারেনি। সেপ্টেম্বরে এসে রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ এগিয়ে গেল।

খাতভিত্তিক রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ দেখা যায়, শক্ত অবস্থানসহ ঘুরে দাঁড়ানো তৈরি পোশাক খাত, হোম টেক্সটাইল এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের সার্বিক রপ্তানি চিত্রকে প্রথম প্রান্তিকের শেষে ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে আসতে ভূমিকা রেখেছে।

পোশাক খাতে বরাবরের মতো নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে বেশি। এ খাতে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ৫১৬ কোটি ডলার। শুধু সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ১৯০ কোটি ডলার। দীর্ঘদিন পর ওভেন খাতে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সর্বশেষ তিন মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলার। একক মাস সেপ্টম্বরে এ খাত থেকে আয় এসেছে ১৫১ কোটি ডলার।

আরেক পোশাকসংশ্লিষ্ট খাত হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২৭ কোটি ডলারের পণ্য।

একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ২৭ কোটি ডলার আয় হলেও প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২০ শতাংশ।

তবে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি এ তিন মাসে ৩০ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছে। এ খাত থেকে ২১ কোটি ডলার রপ্তানি আয় এসেছে।

অপর বৃহত্তর খাত হিসেবে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চা, সবজি, তামাক, ফলমূল, মসলা, শুকনো খাবারসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ডলার।

অন্যান্য খাতের মধ্যে হিমায়িত ও জীবন্ত মৎস্যে ১৫ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ৪৫ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

রাবার রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫০ শতাংশ। হস্তনির্মিত পণ্য (হ্যান্ডিক্র্যাফট) রপ্তানিও ইতিবাচক ছিল; ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে।

কাঁচ ও কাঁচজাতীয় পণ্য রপ্তানিতে ১৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তামার তার, আয়রন স্টিল, স্টেনলেস স্টিল, ইলেক্ট্রনিকপণ্য, বাইসাইকেল ও অন্যান্য ইঞ্জিনিয়াং পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ।

Share if you like