সুকুকের ওপর কর রেয়াতের ঘোষণা

সুবিধা পেলো বেক্সিমকো ও বাংলাদেশ ব্যাংক


দৌলত আক্তার মালা | Published: September 18, 2021 11:52:53 | Updated: September 18, 2021 14:22:17


সুকুকের ওপর কর রেয়াতের ঘোষণা

ইসলামি অর্থনৈতিক হাতিয়ার সুকুকের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্ডটির উপর কর রেয়াতের প্রস্তাব দিয়েছে।

স্থানীয় বন্ডের বাজারকে আরো গতিশীল করে তোলার প্রয়াস হিসেবে একটি নিলামে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

সুকুক বন্ডের বিশেষ উদ্দেশ্য বাহন বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (এসপিভি) এবং প্রবর্তকের মধ্যে সম্পদ ক্রয় ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কর ছাড় দেবে রাজস্ব বোর্ডের মূসক বিভাগ।

এই দুই পক্ষের মধ্যে সম্পদ ভাড়া বা লিজ নেওয়া হলে সেক্ষেত্রে মূসক প্রযোজ্য থাকলেও এসআরও (স্ট্যটিউটরি রেগুলেটরি অর্ডার) জারি করার মাধ্যমে তা ছাড় দেওয়া হবে।

মূসক বিভাগ চলতি মাসের ৭ তারিখে সুকুকের ওপর কর ছাড় দেওয়ার মর্মে একটি এসআরও জারি করেছে।

তবে এই সুবিধা গ্রহণের জন্য একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে এনবিআর।

এসপিভি গঠনের জন্য সুকুক বন্ডের ইস্যুকারী কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) থেকেও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে।

উর্ধ্বতন মূসক কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন যে, সুকুকের প্রচারণা বাড়াতে ৭.৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূসক মওকুফ করা হবে।

তিনি বলেন, বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক মূসক ছাড়ের জন্য দাবি জানিয়েছিল।

বর্তমান আর্থিক বছরের বাজেটে সরকার সুকুকের ওপর কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

উক্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসপিভিতে সম্পদ স্থানান্তকরণের উপর ৪ শতাংশ কর উঠিয়ে নিয়েছে সরকার।

সুকুক অনেকটা ট্রেজারি বন্ডের সদৃশ, যা শরীয়তের আইন মোতাবেক চালিত হয়।

ব্যাংকিং খাতের বাজারের আনুমানিক ৩৫ শতাংশ রয়েছে ইসলামি ব্যাংকগুলোর দখলে।

সুকুক একটি প্রকৃত সম্পদ-সমর্থিত নিরাপত্তা। যে কোম্পানি বাজারে সুকুক বন্ড ছাড়বে, তারা লিজিং মেয়াদের পরে সম্পদটি ফিরে পাবে।

মূসক কর্মকর্তা বলেছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে সুকুক বন্ড ছাড়লে কর রেয়াতের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

গত এপ্রিলে দেশের প্রথম বেসরকারি কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকো প্রথমবারের মতো ৩,০০০ কোটি টাকার সুকুক বন্ড আল ইসতিসনা বাজারে ছেড়েছে।

এটি বেসরকারি খাতের বৃহত্তম সিকিউরিটি ইস্যুকরণের রেকর্ড।

সংশ্লিষ্ট শিল্পের অভ্যন্তরীণ সূত্র হতে জানা যায় যে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইসলামি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ১-২ শতাংশ আয় দিয়ে পারিবারিক ব্যয়ভার বহন করতে পারবেন না।

গতানুগতিক ব্যাংকগুলোর বন্ড সুদ-ভিত্তিক হয়ে থাকে বলে ইসলামিক ব্যাংক সেই বন্ডগুলো ক্রয় করতে পারে না।

গত বছর ডিসেম্বরে সরকার প্রথমবারের মতো নিরাপদ পানির একটি প্রকল্পের জন্য ৮,০০০ কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছাড়ে বাজারে।

আন্তর্জাতিক সুকুক বাজারের মূল অংশগ্রহণকারী হলো সার্বভৌম সুকুক।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ পর্যন্ত ইস্যুকৃত সার্বভৌম সুকুকের পরিমাণ ৬০৬ হাজার ৩০ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যুকৃত সুকুকের ৫৫ শতাংশ।

doulot_akter@yahoo.com

Share if you like