Loading...

সিভি লেখার কলাকৌশল

| Updated: July 03, 2021 15:31:29


সিভি লেখার কলাকৌশল

সিভি ছাড়া কি আজকাল কোনো চাকরি জোটে?

লিখিত দরখাস্ত পেশাদারি জীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে যতটা না ব্যবহার হয়, ততটা বেশি ব্যবহার হয় ‘সিভি’ শব্দটি, ইংরেজি ‘Curriculum Vitae’ শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ। ধরে নেয়া হয়, সিভি বর্তমানকার ডিজিটাল সময়কালের ই-রিক্রুটমেন্টের অন্যতম প্রধান অংশ। বলা চলে, চাকরির বাজারে টেকসই উপায় হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে ই-রিক্রুটমেন্ট। সেখানে মূলত কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের সহায়তায় চাকরিদাতা কাকে চাকরি দেবেন, তা ঠিক করেন। সিভি একজন চাকরিদাতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি কাকে চাকরি দেবেন, তার অনেকটা নির্ভর করে এটির উপর।

সিভিতে মূলত কী থাকে?

সহজ কথায় বলা যায়, সিভি হচ্ছে আবেদনকারীর যোগ্যতার তথ্যনামা। আবেদনকারীর চাকরি পাবার জন্য সিভিতে নির্দিষ্ট তথ্যগুলো গুছিয়ে দিতে হয়। শুধু গোছানো হলেও চলে না, সুনির্দিষ্ট ও চাকরিদাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, সিভি হওয়া চাই সেরকম। মূলত ইংরেজিতে সিভি লেখা হয়।

কী কী খেয়াল রাখতে হবে?

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আগে ও পরে করা সব কাজের তালিকা করে তারপর কোনটা সিভিতে দেবেন, সেগুলো বাছুন। নিজের লিংকডইন অ্যাকাউন্ট গুছিয়ে নিন, অর্জন করা সার্টিফিকেটের সফটকপি রাখুন সেখানে।

সিভিকে গোছানো রূপ দিতে গেলে পর্যাপ্ত সময় দিতে হয়, আপনার প্রতিটি কাজের ব্যাপারে নিজের স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। কোথায় আবেদন করছেন, জেনে নিন, সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে। তারপর সেটার সাথে মিল রেখে আপনার উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকা তৈরি করুন। ব্যক্তিগত বিবরণের পাশাপাশি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, লিংকডইন অ্যাকাউন্ট দেবেন, তাতে করে আপনার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ হয়।

চাকরিতে আবেদনের তথ্যনামা ভালো করে কয়েকবার পড়ুন, মিলিয়ে নিন আপনার হাতের কাছে থাকা কাগজপত্রের সাথে। যেরকম ছবি চাওয়া হয়েছে, সেরকম ছবি, কাগজপত্র দেবেন। রেফারেন্সের তালিকা যত প্রাসঙ্গিক হবে, তত আপনার কাজে আসবে। যারা আপনাকে কাজে নেবার জন্য সুপারিশ করছেন, তাদের থেকে লেটার অফ রেকমেন্ডেশন নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো। তা না হলে আলাদাভাবে রেফারেন্সের তালিকা তৈরি করুন, রেফার করা ব্যক্তির নাম, পেশা, মেইল অ্যাড্রেস, ফোন নম্বর উল্লেখ করুন।

শুধু দক্ষতাগুলো দেব?

যে পদে আপনি আবেদন করেছেন, সে পদের সাথে মানানসই যোগ্যতাগুলো যাতে আপনার সিভিতে থাকে, সেটা খেয়ালে রাখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তথ্যগুলো স্তরে স্তরে সাজানো যায়। আপনার পেশাদারি অভিজ্ঞতা আপনার হার্ড ও সফট, উভয় ধরনের স্কিল বাড়ানোর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে আপনার পারদর্শিতা দরকার, সাথে সাথে দরকার পরিশ্রমী মনোভাব, আপনার পারদর্শিতা হচ্ছে হার্ড স্কিল ও আপনার পরিশ্রম করার মানসিকতা হচ্ছে সফট স্কিল।

যখন সিভিতে নিজের পরিচয় দেবেন, তখন আপনার সফট স্কিল তুলে ধরবেন, পরে একে একে হার্ড স্কিল তুলে ধরবেন, যেমন- আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার যথার্থ বিবরণী; কোথায় কাজ করেছেন, সেগুলোর খুঁটিনাটি; আপনার পড়াশোনার বাইরে করা কাজগুলো এবং আপনার আগ্রহের বিষয়গুলো দেবেন।

সাথে কভার লেটার দিতে চাইলে সেখানে আপনি কেন কাজ করতে চান, কাজটির প্রতি আপনার আগ্রহ কেমন, সেগুলো লিখবেন।

বিবরণ দেয়ার সময় কী করব?

নির্দিষ্ট যেকোনো গঠন (ইংরেজিতে লে-আউট )অনুসরণ করে সিভিতে তথ্য সাজানো যাবে। খুব রঙিন সিভির আসলে প্রয়োজন নেই, বরং বেশি রং ব্যবহার করলে দৃষ্টিকটু লাগার সম্ভাব্যতা রয়েছে। যেকোনো দুটো রং ব্যবহার করলে ভালো, আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যাতে চোখ এড়িয়ে না যায়, সেজন্য শিরোনামগুলো ভিন্ন রংয়ে দিতে পারেন। তথ্য উপস্থাপন করতে পারেন আপনার মতো করে, টেবিল ব্যবহার করে অথবা একে একে বর্ণনা দিয়ে, তালিকাও দিতে পারেন।

আপনার পূর্বের কাজগুলোর প্রদর্শনীস্বরূপ লিংক ব্যবহার করুন। যেমন স্নাতক শেষ বর্ষে করা থিসিস অথবা প্রজেক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে, সেটার লিংক দিয়ে দিন। লিংকটিতে ঢোকার পর যাতে আপনার সম্পূর্ণ কাজ দেখতে পাওয়া যায়, সেটি নিশ্চিত করুন। যেমন আপনার কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে করা প্রজেক্ট গিটহাবে রাখতে পারেন, বিশ্লেষণধর্মী কাজ রাখা যেতে পারে রিসার্চগেটে অথবা আপনার গবেষণা যদি কোনো জার্নালে প্রকাশিত হয়, সে লিংক ও দেয়া যায়। শুধু লিংক নয়, আপনার কাজটির নাম, প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষিপ্ত করে তুলে ধরুন সিভিতে। যেখানে প্রজেক্ট রেখেছেন, সেখানে আপনার প্রজেক্টের ব্যাপারে যথাযথ তথ্য দিন, কবে করেছেন, প্রজেক্ট করার পর কী কী ফলাফল এসেছে, সেখানে কী কী ব্যবহার করা হয়েছে- এসব উল্লেখ করুন।

সিভি লেখা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এখনতো মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে শুদ্ধ ইংরেজি লেখা কোনো ব্যাপারই নয়।

যেকোনো ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন বা এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে লেখা ঠিকঠাক করা যায়, তা যেমন ঠিক, তেমনি এসব সফটওয়্যার কোনো ভুল না দেখালে যে আপনার লেখার ভেতর সব ঠিকঠাক আছে, এটা মনে করাও ভুল। লেখা হতে হবে যথাযথ ও যথেষ্ট, এবং আপনার সিভির রচয়িতা আপনি বৈ অন্য কেউ হতে পারবে না। জেনে রাখা ভালো, একজন চাকরিদাতা অনেকাংশেই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দুটোই রাখেন। আপনার সিভি যদি আপনি ছাড়া অন্য কেউ লিখে দেয়, সেটা বুঝতে তার বেশি সময় লাগবে না।

সিভির অনন্যতা থাকা জরুরি। সিভির পেছনে সময় দিন, যাতে ব্যাকরণিক ভুল না হয় এবং বাক্যগুলো সঙ্গতিসম্পন্ন হয়। যিনি আপনাকে চাকরিটা দেবেন, তার যাতে বুঝতে সুবিধা হয়, সেভাবে সিভি লিখুন। খুব কঠিন শব্দ ব্যবহার না করে সহজ, সুন্দর শব্দ ব্যবহার করুন। তার মানে এই নয় যে, অনুপম শব্দচয়ন করা যাবে না। নতুন শব্দ সানন্দে ব্যবহার করুন, তবে পরিচিত শব্দের সাথে মাত্রা ঠিক রেখে।

সোফিয়া নুর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।

sofiautilitarian@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic