গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে এক মাসে ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ এবং একটি সিংহের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রায় এক মাস তদন্তের পর রোববার পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ১৯ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা পড়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তদন্ত কমিটির প্রধান পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, “বর্ধিত সময়ের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি।
“কমিটি সম্মিলিতভাবে ১৮ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে নানা পরামর্শ হিসেবে আরও পাতা যুক্ত করা হয়েছে।”
তদন্তে কী পাওয়া গেল, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। “এটি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হবে,” বলেছেন তিনি।
সঞ্জয় ভৌমিক নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল, বন ভবন, ঢাকা এর বন সংরক্ষক এবং কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রাক্তন চিফ ভেটেরিনারি অফিসার ডা. এ বি এম শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি অনুষদের অধ্যাপক মো. আবু হাদী নূর আলী খান, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের (সিডিআইএল) প্রধান মো. আজম চৌধুরী ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।
কমিটির সহযোগী হিসেবে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের পরিচালক ডা. শফিউল আহাদ সরকার, ঢাকার কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে কর্মরত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুকেশ চন্দ্র বৈদ্য ও বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় কর্মরত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজমুল হুদা।
গত জানুয়ারি মাসে সাফারি পার্কে ১১টি জেব্রা, ১টি বাঘ এবং ৩ ফেব্রুয়ারি একটি সিংহী মারা যায়। একসঙ্গে এত প্রাণীর মৃত্যুতে পার্কের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
জেব্রা ও বাঘের মৃত্যুর পর গত ২৬ জানুয়ারি তদন্ত কমিটিটি গঠন করা হয়েছিল। তাদের সময় দেওয়া হয়েছিল ১০ কার্যদিবস। পরে সিংহের মৃত্যু হলে তাও এই তদন্তে আসে। কমিটিকে সময়ও ১০ কার্যদিবস বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
শুরুতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও পরে কমিটিতে আরও তিনজনকে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সহযোগী বা পরামর্শক হিসেবে নেওয়া হয় আরও তিনজনকে।
কমিটি তার বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
কমিটির কাজ চলার মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি সাফারি পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছিলেন, প্রাণীগুলোর মৃত্যুর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
