Loading...

সাধারণ সমস্যায় সাধারণ ঘরোয়া টোটকা

| Updated: May 12, 2021 17:19:25


ছবিঃ সংগৃহীত ছবিঃ সংগৃহীত

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা মাঝে মাঝেই ছোটখাটো এমন কিছু অসুস্থতা অনুভব করি, যেসব ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো, ঘাবড়ে না গিয়ে বরং আশেপাশের থাকা উপকরণের মাধ্যমে সহজেই সমাধান করার চেষ্টা করা এবং তারপর প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। আজকের লেখায় সেরকম কিছু ঘরোয়া টোটকা নিয়ে কথা বলব।

দাঁতে ব্যথা

অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক এই ব্যথাটি প্রায়ই আমাদের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটায়। দাঁত ব্যথায় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, তবে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন পরামর্শ পাওয়া সহজ হয় না। করোনাকালে তা আরো বেশি প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু উপকরণ দিয়ে সাময়িক উপশম পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো, লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি। লবণ পানিতে থাকে প্রাকৃতিক ডিসইনফেকট্যান্ট, যা আমাদের দাঁতের মাঝে আটকে থাকা খাবার সরাতে সাহায্য করে এবং এর পাশাপাশি মাড়িতে ব্যথা হলে তাও কমাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে যা করতে হবে, তা হলো, কুসুম গরম এক গ্লাস পানিতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে তা মাউথওয়াশ হিসেবে কুলকুচি করতে হবে, এতে ব্যথা কমে যাবে।

বদহজম

পেটে গ্যাসজনিত সমস্যা বা বদহজমের সম্মুখীন হয়নি, এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। এগুলো হয়ে থাকে সাধারণত ভাজা-পোড়া খাবার খেলে বা খাবারে অনিয়ম করলে। এই সমস্যা আমাদের মারাত্মক ভোগায়। এতে শরীর খারাপ লাগে, অস্বস্তি করে, বমি বমি ভাব হয়, কখনোবা পেট ফুলে ওঠে। আর তখনই মানুষ গ্যাসের বড়ি খেয়ে ফেলে। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, নিয়মিত গ্যাসের ঔষধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

তবে এর সহজ সমাধান রয়েছে আমাদের ঘরেই; আর তা হলো, আদা। আদার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, প্রদাহবিরোধী ক্ষমতা, যা এই বদহজম দূর করে আমাদের পাকস্থলী তাড়াতাড়ি খালি করতে সাহায্য করে থাকে। এক্ষেত্রে আদা খাবার নিয়ম হলো- একটি আদার টুকরোতে লবণ মাখিয়ে অল্প অল্প করে খেলে কিছুক্ষণের মাঝেই অস্বস্তি কেটে যাবে এবং স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।

ঋতুস্রাবজনিত ব্যথা

নারীদেহের নিয়মিত শারীরবৃত্তীয় ঘটনা হচ্ছে ঋতুস্রাব, যা প্রতি মাসেই হয়ে থাকে। তবে এর মাঝে অনেকেই যে সমস্যাটিতে প্রচুর ভোগেন, তা হলো তলপেটে ব্যথা। এ ব্যথা অনেক কারণেই হতে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ‘মাসল ক্রাম্প, অর্থাৎ ঋতুস্রাবকালে সাধারন দিনের তুলনায় বেশি হারে জরায়ুর পেশীগুলোর মধ্যকার সংকোচনের ফলে হয়ে থাকে। এতে করে পেশী প্রাচীরগুলোর রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং অক্সিজেনের অভাবে ব্যথা বহনকারী কিছু হরমোন নিঃসরিত হয় এবং এতেই ব্যথা অনুভূত হয়।

অনেকে এজন্য বিভিন্ন ব্যথা নিরাময়কারী ওষুধ বা ‘পেইনকিলারখান, যা একেবারেই উচিত নয়। এ জাতীয় ওষুধ নিয়মিত সেবনের ফলে তা কিডনিজনিত ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ সমস্যা সমাধানের ঘরোয়া সহজ উপায় হচ্ছে, তলপেটে গরম পানির সেঁক নেয়া; যাতে এই পেশী প্রাচীরগুলোর প্রসারণে সাহায্য হবে এবং রক্তসঞ্চালন অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক হয়ে ব্যথা আস্তে আস্তে কমে আসবে।

চোখ জ্বালাপোড়া

ধুলাবালি বা অন্যান্য কারণে মাঝে মাঝেই চোখ চুলকানোর মতো বিব্রতকর সমস্যাটি দেখা যায়। এটি আরো প্রকট হয়, যখন আমরা হাত দিয়ে চোখ চুলকাতেই থাকি। এতে চোখ লাল হয়ে ফুলেও যেতে পারে। এমতাবস্থায় আমরা সহজেই ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে সমাধান করতে পারি। এর মধ্যে একটি হলো শসা। শসায় রয়েছে প্রদাহবিরোধী উপাদান, যা চোখের জ্বালাপোড়া দূর করতে সাহায্য করবে।

একটি শসা ভালোভাবে ধুয়ে পাতলা পাতলা করে কেটে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে, তারপর দুই চোখের উপর ২০ মিনিট রাখতে হবে। এতে আস্তে আস্তে চোখ চুলকানো কমে আসবে। আরেকটি উপকরণ হলো আলু, এতে রয়েছে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট নামক উপাদান, যা চোখের চুলকানো, ফোলা ভাব, লালচে ভাবকে কমাতে সাহায্য করবে। এটিও শসার মতো করে ব্যবহার করতে হবে। এর যেকোনো একটি টানা কয়েকদিন ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

মুখে দুর্গন্ধ

মুখে দুর্গন্ধ হোক, এটা নিশ্চয়ই কেউ চায় না। আর এতে অন্যের কাছে সম্মানহানির আশঙ্কা তো থাকেই। খুব সহজেই এটি থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো লবঙ্গ। লবঙ্গে রয়েছে ইউজেনল নামক একটি উপাদান, যা এর সুগন্ধের মূল কারণ। কেউ খালি মুখে কিছুক্ষণ লবঙ্গ নিয়ে রাখলে তার মুখের দুর্গন্ধ চলে যায় সাথে মুখের ভারিক্কী ব্যাপারটাও কেটে যায়।

কোষ্ঠ-কাঠিন্য

এটি এমন একটি অসুখ যাতে অনেকেই ভোগেন। আপাতদৃষ্টিতে বেশি গুরুতর মনে না হলেও যাদের এ সমস্যা রয়েছে, তাদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। তবে নিয়মিত বেলের শরবত খেলে কিছুটা উপকার হতে পারে। বেল আমাদের আশেপাশে সহজলভ্য একটি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমান ফাইবার বা আঁশ, যেটি আমাদের মলকে পানি ধারণ করতে সাহায্য করে এবং সহজেই বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য তাই পাকা বেল পানিতে মিশিয়ে শরবত বানিয়ে তিন মাসের মতো খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ত্বকের যত্নে

ত্বক আমাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ। আমরা সবাই চাই আমাদের ত্বক সুন্দর রাখতে, কিন্তু মাঝেমাঝেই তাতে ছেদ পড়ে কিছু ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আক্রমণ করে বসলে। এতে আমরা খোসপাঁচড়া, চুলকানি, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল ফুসকুড়ি, অ্যালার্জি ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হই। এ সমস্যারও ঘরোয়া একটি উপায় আছে। আমরা সবাই নিমপাতার সাথে পরিচিত। নিমপাতায় আছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান, যাতে এটি সহজেই ত্বকের ক্ষতিকর ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে নিম পাতা সিদ্ধ পানি বা নিম পাতা বেটে সে সকল স্থানে লাগালে সহজেই ভালো হয়ে যাবে। তাছাড়া মুখের ত্বকে মাঝে মাঝেই ব্রন, ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস হতে পারে। এর জন্যও নিমপাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে মুখ ধুলে উপকার পাওয়া যাবে।

আজকের লেখায় সবগুলো পদ্ধতিই কোনো সমস্যা আপাত সমাধানের জন্য ঘরোয়াভাবে কিছু কার্যকরী উপায়, তবে সমস্যা বেশি অনুভূত হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাদিজাতুল কোবরা বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল কারিগরি অনুষদে পড়াশোনা করছেন

khadizatulkobra333@gmail.com

 

Share if you like

Filter By Topic