বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপের রূপ নেওয়ায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ উপকূল থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছিল এ নিম্নচাপ।
নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার শঙ্কা কম। এর প্রভাব বাংলাদেশ উপকূলে তেমন থাকবে না।
অনেক দূরে অবস্থান করায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। কয়েক দিন পরে নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলে বৃষ্টির আভাস রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে এর নাম হবে জাওয়াদ। এটি সৌদি আরবের দেওয়া নাম।
আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশের দেওয়া নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়।
সবশেষ সেপ্টেম্বরে ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণঝড় গুলাব। আর মে মাসে ইয়াস ওই উপকূলে আঘাত হানে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত বছর মে মাসে বাংলাদেশে যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল, তার নাম ছিল আম্পান।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটাররের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।
নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ পেতে পারে।