সরকার এখন ‘সর্ষে ফুল’ দেখবে: ফখরুল


FE Team | Published: July 19, 2022 19:20:31 | Updated: July 20, 2022 17:42:57


সরকার এখন ‘সর্ষে ফুল’ দেখবে: ফখরুল

বিদ্যুৎ সঙ্কটসহ দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন সরকার সর্ষে ফুল দেখবে।

মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থপাচার চলছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, রিজার্ভের সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার তারা (সরকার) এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে দিয়েছে। এই টাকাটা কাদেরকে দিয়েছে? তাদের সেই সমস্ত লোকজনকে, যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে বিভিন্নভাবে দেশে-বিদেশে এবং তারা এই টাকাটা নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে, বাড়ি-ঘর বানিয়েছেন। দেশের মধ্যে সেই টাকা আর আসছে না। এই তো শুরু, দিস ইজ এ বিগিনিং।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সব জায়গাতেই যে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। এখন গভর্নমেন্ট সর্ষে ফুল দেখবে, দেখতে হবে। জনগণ ফুঁসে উঠছে, ফুঁসে উঠবে এবং তাদের (সরকার) পতন ত্বরান্বিত হবে।

অর্থনীতিতে লোড শেডিংয়ের প্রভাব নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত নির্ভর করে পোশাক শিল্পের ওপর। সেই খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার ঘাটতি হলে সমস্যা তৈরি হবে, পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হবে।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সম্পূর্ণভাবে অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িতে। সেখানে যখন রেশনিং সিস্টেম চালু করা হবে, তখন কিন্তু উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থনীতিবিদরা যেটা বলছেন, এটা একটা টেম্পোরারি মেইজার। এটাকে কাটাতে হলে তাদেরকে (সরকার) স্থায়ী সমধানের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। সেইদিকে কিন্তু সরকার যাচ্ছে না। তারা দাম বাড়াচ্ছে না। দাম বাড়ালে জনগণ বিগড়ে যাচ্ছে। অলরেডি দাম তো বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতিতে অত্যন্ত ক্ষতির সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে ফখরুল বলেন, দেখুন যেসব পাওয়ার প্ল্যান্ট কাজ করছে না তাদেরকে পয়সা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে কিন্তু বিরাট অংশ চলে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেককে ডলারে পে করতে হয়। এই সমস্যাগুলো বলা যেতে পারে সামগ্রিক সমস্যা। এই সমস্যাগুলো সৃষ্টির বিষয়ে আমরা আগেই বলেছি যে, সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং দুর্নীতি চরম জায়গায় পৌঁছেছে। সব জায়গাতে তাদের একটাই লক্ষ্য দুর্নীতি করা। এটা অস্বীকার করলে তো চলবে না।

প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আজকে এমন একটা জায়গায় চলে গেছে, যেখানে পয়েন্ট অব নো রিটার্ন-এ চলে গেছে। ঠিক একইভাবে শ্রীলঙ্কায় যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ৭টা দেশকে ওয়ার্নিং দেওয়া হচ্ছে, শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এটা তো হয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুতের অর্থ লুটের বিচার হবে

বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকার তাদের দিতে হয়েছে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই। এখন যে বলা হচ্ছে ৬টা ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকবে, বাকিগুলো কিন্তু পয়সা পেতেই থাকবে। এরাও (ছয়টা) কিন্তু পয়সা পাবে।

পত্রিকায় দেখেছি, ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বছরে তাদের জন্য গুণতে হবে। এতে প্রমাণিত শুধু দুর্নীতি করার জন্য কোনো বিশেষ বিশেষ কোম্পানিকে অর্থ বানানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে তাতে নিজে উপকৃত হওয়ার কারণে এই কাজটা করেছে তারা।

দুর্নীতির বিচার করার আশা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিদ্যুৎ না দিয়ে ওইসব কোম্পানি মালিকদের এভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে, এরা এভাবে টাকা চুরি করেছে। একদিন তাদেরকে এর হিসাব দিতেই হবে। এই হিসাব না দিয়ে তারা যেতে পারবে না। তাদেরকে জনগণের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নয়, প্রতিটা ক্ষেত্রে, প্রতিটা মেগাপ্রজেক্টে দুর্নীতির করার জন্য তারা (সরকার) জনগণের পকেট থেকে টাকা কেটে নিয়ে সেই টাকা প্রদান করা হচ্ছে সেটার দিকে তাদের কোনো নজর নেই। যার ফলে কী হয়েছে? আজকে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তার প্রধান কারণ দুর্নীতি।

আমরা বার বার বলেছি, এমন কোনো পরিকল্পনা, এমন কোনো প্রজেক্ট হাতে নেওয়া উচিত নয় যেটা আমরা চালাতে পারবো না। আমরা ওই ধরনের জুতাই কেনা উচিত যে ধরনের জুতা আমি পড়তে পারবো, আমাদের পায়ের মাপের বাইরে জুতা কিনলে তা পরা সম্ভব না। আজকে তাই ঘটছে। এটার মূল্য দিতে হচ্ছে জনগণকে। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে এই দুর্নীতির কারণে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসূমহ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নড়াইলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর-মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সরজমিন তদন্তে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান তিনি।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, ফাহিমা মুন্নী, রুমির ফারহানা ও নিপুণ রায় চৌধুরী।

তদন্ত কমিটি আগামী ২৬ জুলাই প্রতিবেদন জমা দিলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান ফখরুল।

কার্গো বিমান বিধ্বস্তের প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৬ জুলাই সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশে সমরাস্ত্র নিয়ে আসার সময় ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমান বিধবস্ত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় স্থায়ী কমিটির সভায়।

সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য এবং আইএসপিআর এর বক্তব্য সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় জনগণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের নিকট প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়।

ওয়াসার পানি এবং ৫৩টি ওষুধের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

সিইসির বক্তব্য হাস্যকর

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এখন হাস্যকর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ও ইলেকশন কমিশন, তারা মনে করেন যে, দেশের সব মানুষ আহাম্মক। তাহলে তো হবে না। এটা গত ১০ বছর ধরে প্রমাণিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এ কথা শামসুল হুদা সাহেবও বলেছেন, শেষ মুহূর্তে এ কে এম নুরুল হুদা সাহেবও তার চাকুরি যাওয়ার পরে এই কথা বলেছেন। আর উনি এখনই বলে দিচ্ছেন, যে এটা সম্ভব না, ইটস নট পসিবল। গতকাল তিনি বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

সরকার পরিকল্পিতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করেছে এবং জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তত্ত্বাধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সংকট উত্তরণের কোনো পথ নেই।

Share if you like