জীবন জড়িয়ে থাকে নানা রকম সম্পর্কে, কোনোটা পারিবারিক, কোনোটা সামাজিক। তবে সুসম্পর্ক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে জীবনব্যবস্থা যত জটিল হচ্ছে, সুসম্পর্ক ধরে রাখা হয়ে যাচ্ছে ততটা কঠিন। জেনে না জেনেই অনেকের সাথে আমাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
উপায় আছে কি এই তিক্ততা এড়ানোর?
পারিবারিক তিক্ততার ক্ষেত্রে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেডিকেল ওয়েবসাইট হেলথলাইন মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে থেরাপিস্ট ক্যাথরিন ফ্যাব্রিজো তিক্ততা এড়ানোর ভাবনা ভাবার আগে কোনো সম্পর্ক আদৌ তিক্ত কিনা, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নির্ধারণ করেছেন।
কীভাবে বুঝবেন সম্পর্ক তিক্ত রূপ ধারণ করছে কিনা? দেখুনতো এসব হয়েছে কিনা আপনার সাথে -
- পরিবারের সবার মাঝে নিজেকে একা ভাবা
- নিজেকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে এমন ভাবনা
- নিজের পছন্দসই লক্ষ্যে নেতিবাচক সমালোচনা শোনা
- শারীরিক লাঞ্ছনা
- ঘৃণামিশ্রিত কথা শোনা
পারিবারিক তিক্ততা উত্তরণের উপায়
ক্যাথরিনের মতে, সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে সম্পর্ক থেকে কী চাই, তার উত্তর জানা দরকার। এতে নিজের করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মেলে।
যেমন, কেউ হয়তো তার ছোট বোনের সাথে একটি চমৎকার আড্ডা আশা করছেন। কিন্তু আলাপনে ছোট বোনের সাথে এমন কিছু ব্যক্তিগত বিষয় তিনি বলে ফেলেন, যা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও কানে যেতে পারে এবং তিক্ততা বাড়ায়।
পরিবারের কারো সাথে ভালো সময় অতিবাহিত করার মানে এই নয় যে যাবতীয় সবকিছুই বলে দিতে হবে। তার বাইরে গিয়েও অনেক আলাপ করা যায়, যা আনন্দের এবং স্বস্তিদায়কও।
আবার অনেক সময় ঘরোয়া আলোচনায় এমনকিছু বিষয় নিয়ে কথা হয় যা হয়তো নিজের দর্শন, চিন্তার সাথে পুরোটাই বেমানান। এক্ষেত্রে নিজেকে দূরে রাখাই শ্রেয়।
প্রতিবেদনটিতে ক্যাথরিন আরও বলেন, সবার জীবনে এমনকিছু গোপন বিষয় থাকে যা সব সম্পর্কের মানুষের সাথে শেয়ার করা উচিৎ নয়।
কিছু কথা হয়ত শুধু বন্ধুদের সাথেই বলা যায় আবার কিছু কথা কেবলই নিজের সাথে। সুতরাং, পরিবারকে কতটুকু বলতে হবে আর কতটুকু চেপে রাখতে হবে, এই বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবনও পারিবারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে খুব কাজে আসে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক নীরব থাকার অভ্যাস পারিবারিক অনেক ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে। সব কথার উত্তর দিতে হবে, সবকিছুই অন্য কেউ নিজের মতো করে বলবে, এমন চিন্তা থেকে দূরে থাকা গেলে সম্পর্কে তিক্ততা কমে।
বন্ধু জগতে তিক্ততা
পরিবারের পরপরই বন্ধু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিক্ততা বন্ধুত্বেও আসতে পারে। লাইসেন্স ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারস বিষয়ে পিএইচডি-ধারী জ্যানেট ব্রিটো তার গবেষণায় কিছু বিষয় নির্ধারণ করেছেন, যার উপস্থিতি বন্ধুত্বে তিক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
- বন্ধুমহলে নিজেকে ছোট ভাবা
- কোনো বন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে অযৌক্তিক সমালোচনা শোনা
- গুরুতর ভুল করেও ঠাট্টার ছলে ক্ষমা চাওয়া
- সবসময় তুলনা করা
- ব্যক্তিত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা
বন্ধুদের মাঝে তিক্ততা কমাতে করণীয়
চিকিৎসাবিজ্ঞান পর্যালোচনা করে ব্রিটো বলেন, দ্বিতীয়বার কাউকে সুযোগ দেয়ার চেষ্টা বেশিরভাগ সময়ই ইতিবাচক হয়। কোনো বন্ধু যদি এমনকিছু কথা তোলে, যা ভেতর থেকে পীড়া দেয়, মনোবলে আঘাত হানে, করণীয় হতে পারে নিজের খারাপ লাগার ব্যাপারে তাকে অবগত করা।
তবে সবসময় এমনটা নাও ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি নিজেকে সময় দেয়ার পরামর্শ দেন এবং নিজস্ব সীমা-পরিসীমা সম্পর্কে ধারণা রাখার কথাও বলেন। অর্থাৎ যেখানে যে কথা বললে তার উপযুক্ত মানে থাকে সেখানে ঠিক ততটাই বলা।
ব্রিটো আরও বলেন, অনেকসময় সুস্থ রুটিনে নিজেকে না রাখা গেলে, ভালো কিছুও মন্দ মনে হতে পারে। ভালো ঘুম, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া ইত্যাদি বিষয় নিজেকে সতেজ রাখে, ফলে পৃথিবীটাকেও সতেজ আর সুন্দর বলে মনে হয়।
সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com
