সম্পত্তির উত্তরাধিকার: জটিলতা ‘কাটছে’ ট্রান্সজেন্ডাদের


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: February 24, 2022 10:20:32 | Updated: February 24, 2022 10:56:56


সম্পত্তির উত্তরাধিকার: জটিলতা ‘কাটছে’ ট্রান্সজেন্ডাদের

ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে একট খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা, চিকিৎসা আবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ঘোঁচাতে আট বছর আগে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে হিজড়া হিসেবে উল্লেখ করা হলেও উত্তরাধিকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, দেশে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সম্পত্তির উত্তরাধিকার বিষয়ে পৃথক আইন বলবৎ থাকলেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের পুরুষ অথবা নারী হিসেবে পরিচিতি নির্ধারিত না থাকায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ক্রোমোজম বা হরমোনে ত্রুটি অথবা মানসিক কারণে কারো লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিলে বা দৈহিক লিঙ্গ পরিচয়ের সঙ্গে আচরণগত মিল না থাকলে তাদের হিজড়া হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

সমাজে এ ধরনের ব্যক্তিদের নিচু দৃষ্টিতে দেখা হয় বলে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র- সব জায়গায় নিগৃহীত এবং অধিকারবঞ্চিত হতে হয়। এ কারণেই অনেকে অন্য হিজড়াদের সঙ্গে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বসবাস করেন।

অনুষ্ঠানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তারা নিগৃহীত হচ্ছেন, কেউ কেউ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবিকার তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নিচ্ছেন। যার ফলে সমাজে অসাম্য ও বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।

ভূমিমন্ত্রী জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট অনুশাসন আছে।

তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো প্রস্তাবনায় তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকগণের পুরুষবাচকতা অথবা নারীবাচকতা নির্ধারণের পর চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে তাদের সম্পদের উত্তরাধিকার অর্জন করার কথা বলা হয়েছে।

লিঙ্গের পুরুষবাচকতা অথবা নারীবাচকতা নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে তাদের নারী ও পুরুষ হিসেবে উত্তরাধিকারের পরিমাণ যোগ করে এর অর্ধেক সম্পত্তির উত্তরাধিকার করা যেতে পারে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে।

এসব প্রস্তাবনার ওপর সকলের মতামত গ্রহণ করে সংশোধন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

ভূমি ভবনে স্থাপিত মডেল শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেন্দ্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সকল পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মজীবী মায়ের সন্তানেরা সেবা পাবেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে ৬০ শিশুকে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাখার সুবিধা রয়েছে।

কেন্দ্রে শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, সকাল-বিকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হবে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রটিতে রয়েছে শিশুদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুবিধা।

ডে-কেয়ার ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ শিশু পরিচর্যাকারীদের মাধ্যমে সেন্টাররটি পরিচালিত হবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ভূমিমন্ত্রী বুধবার এই সফটওয়্যার সিস্টেম উদ্বোধন করেন

কর্মজীবী নারীরা যাতে পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বে ভারসাম্য রেখে নিশ্চিন্তে এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কর্মজীবী নারীদের ৪ মাস থেকে ৬ ছয় বছর বয়সী শিশুদের দিবাকালীন নিরাপদ সেবা প্রদান করা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

Share if you like