শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দলের নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা বলেছেন, গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে আগ্রহী। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তার দল সামাগি জন বালাভেগায়া (এসজেবি) প্রেসিডেন্ট পদে সাজিদের জন্য সমর্থন জোগাড়ে মিত্র ও অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কায় এ বছরের মার্চ থেকে হাজার হাজার মানুষ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে।
দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে গেছে, যে কারণে সরকারকে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির জন্য গোটাবায়ার সরকারকেই দায়ী করছে শ্রীলঙ্কার বেশিরভাগ মানুষ। সেই চরম অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটে শনিবার, সেদিন হাজার হাজার মানুষ জলকামান, গুলি ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করে নেয়; পরে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের ব্যক্তিগত বাসভবনেও আগুন দেয় তারা। বিক্ষোভকারীদের হানার সময় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী কেউই তাদের বাসভবনে ছিলেন না।
পরে প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি চলতি সপ্তাহেই পদত্যাগ করবেন। স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনেও আগামী ২০ জুলাই নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য পার্লামেন্টে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছেন।
প্রেমাদাসা বিবিসিকে বলেছেন, তার দল ও মিত্ররা প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হলে সেখানে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। এবার জিততে হলে তাকে ক্ষমতাসীন জোটের এমপিদের সমর্থনও পেতে হবে।
দুই দশকের বেশি সময় শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে আধিপত্য ধরে রাখা রাজাপাকসে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তীব্র গণঅসন্তোষের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট হতে সাজিথ এরই মধ্যে জোর প্রচারণায়ও নেমেছেন।
জুনে শ্রীলঙ্কার মুদ্রাস্ফীতির হার ৫৫ শতাংশে পৌঁছায়, এ পরিস্থিতিতে দেশটির লাখ লাখ মানুষকে কেবল জীবিকা নির্বাহের জন্যই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রেমাদাসা জানান, সংকট মোকাবেলায় সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশ হতে তিনি প্রস্তুত।
এপ্রিলে এ এসজেবির নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হতে আহ্বান জানানো হলেও তিনি সে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। সর্বদলীয় একটি সরকারের পথ তৈরি করতে রনিলও শনিবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার এখনকার পরিস্থিতিকে বিভ্রান্তিকর, অনিশ্চিত ও পুরোপুরি নৈরাজ্য অ্যাখ্যা দিয়ে প্রেমাদাসা বলেন, এই সময়ে দরকার ঐক্যমত, পরামর্শ, সমঝোতা ও এক হওয়া।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী দ্বীপদেশটির ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ২৫ কোটি ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
জ্বালানির তীব্র সংকট দেশটিতে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রায় অকার্যকর করে রেখেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানীর অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অচল হয়ে আছে। একই কারণে চলতি সপ্তাহেও স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এমন দুর্দশাগ্রস্ত সময়ে অনেকেই দেশ ছাড়ার চেষ্টাও করছেন।
এ সংকটের সমাধান দ্রুতই সম্ভব নয় বলে সাজিথও স্বীকার করে নিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরতে শ্রীলঙ্কার অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। সংকট নিরসনের জন্য তার দলের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানান বিরোধী দলের এ নেতা।
প্রেমাদাসা বলেন, আমরা জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিব না। আমরা খোলামেলা হবো এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার পরিকল্পনা হাজির করবো।
তবে এসব আশ্বাস বিক্ষোভকারীদের মন গলাতে কতটা ফল্প্রসূ হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কলম্বোর গলে ফেইস সাইটের বিক্ষোভকারীরা দেশের বর্তমান দুর্দশার জন্য পার্লামেন্টের ২২৫ সদস্যের সবাইকেই দায়ী করছেন। শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে নতুন ও উদ্যমীদের পথচলা দেখতে চাইছেন তারা।