শীতকালে বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বেশি। শুষ্ক আবহাওয়া তো আছেই, বিভিন্ন অসাবধানতার কারণেই এই অগ্নি দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
শীতকালীন সকালটি যেন অন্য সময়ের থেকে কিছুটা দীর্ঘ হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা যায় ছেলেবুড়ো সবাই আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহাচ্ছে, সাময়িক উষ্ণতা পেতে গ্রাম-শহর সবখানেই এই চর্চা শীতকালের এক চেনা দৃশ্য। এই আগুন পোহাতে বসেই অসতর্কতাবশত প্রায়ই অগ্নি দুর্ঘটনার কথা শোনা যায়।
শহরাঞ্চলে শীতে ঘরকে একটু উষ্ণ রাখতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখেন কিছু মানুষ। অপচয়ের সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রবণতার ফল হতে পারে ভয়াবহ। অনেক সময় আবদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ ধরে চুলা জ্বালিয়ে রাখা হয়। এর ফলে ঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের মতো ঘটনাগুলো প্রায়ই দেখা যায়।
এছাড়া শীতে দৈনন্দিন বিভিন্ন দরকারে গরম পানি ব্যবহার করেন অনেকে।। এই গরম পানি গায়ে পড়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বিশেষত ছোটদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো উদ্বেগজনক। কারণ অনেক সময় না বুঝেই তারা ফুটন্ত গরম পানি স্পর্শ করে ফেলে। তাই সাবধানতার মার নেই।
শীতে আগুন পোহানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই খোলা জায়গা বেছে নিতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটু অসাবধান হলেই ঘটে যতে পারে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তার আছে এমন জায়গায় আগুন না জ্বালানো বাঞ্ছনীয়।
অন্যদিকে শীতকালে ঝোপ-ঝাড় কিংবা আশপাশের তৃণলতা কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ময়লার স্তুপে আগুন ধরানো, কিংবা সামান্য সিগারেটের আগুন থেকেই শুষ্ক ঘাস, তৃণলতায় মুহূর্তে ছড়িয়ে যেতে পারে এ আগুন।
অযথা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখার অভ্যাস ত্যগ করতে হবে। প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও চুলা জ্বালানোর সময় ঘর আবদ্ধ না রেখে অবশ্যই দরজা বা জানালা খোলা রাখতে হবে।
আর বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির কাছে গ্যাসের চুলার লাইন দেয়া যাবে না। গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে সেটির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে, লিকেজ আছে কি না পরীক্ষা করতে হবে।
যেখানে-সেখানে বিড়ি বা সিগারেটের ছাই কিংবা অবশিষ্টাংশ ফেলার ফলে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে দেখা যায়। তাছাড়া ধূমপান স্বাস্থ্যের উপরও মারাত্নক প্রভাব ফেলে।
আরেকটি বিষয় যা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই সেটি হলো ঘরে এসি চলন্ত থাকলে কিংবা ফ্রিজ খোলা অবস্থায় গ্যাস লাইট জ্বালানো বা কোনো প্রকার আগুন না জ্বালানো। সামান্য ফুলকি, যা আমরা দেখতেও পাবো না হয়তো, ঘটাতে পারে বিশাল অগ্নি দুর্ঘটনা।
প্রতিটি বাড়িতে বা দালানে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা, অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে ঘরের বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও ফিটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করানো, ঘরে উন্নতমানের বৈদ্যুতিক ক্যাবলের ব্যবহার ইত্যাদি আবশ্যক, যদি অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে চান।
পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সেবা পেতে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের ঠিকানা রাখা উচিত। এছাড়া বর্তমানে সরকারি হটলাইন নম্বর ৯৯৯- এ কল করে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
tanjimhasan001@gmail.com
