বাচ্চাটা স্কুলে পড়াশোনায় বা খেলাধুলায় যেন ঠিকঠাক মতো পেরে উঠছে না, কোনো একটা কাজ করতে গেলে একটুতেই হাঁপিয়ে উঠছে, এই অসুখ সেই অসুখ লেগেই রয়েছে, বেড়ে ওঠা বা মানসিক বিকাশটাও যেনো ঠিক পরিণত নয় (যুক্তরাষ্ট্রের এনএইচএসের তথ্যমতে)-এই বিষয়গুলো ঘরের ছোট্ট সদস্যটির রক্তশূন্যতার দিকে নির্দেশ করে। রক্তশূন্যতা মানে শরীরে আয়রনের অভাব যা শিশুদেরসঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ।
খুব ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি ৯০ হাজার শিশু আয়রন স্বল্পতায় ভুগছে। বাংলাদেশে সমীক্ষার ফলাফলও অনেকটা হতাশাজনক; ৫ বছরের নীচের শিশুরা প্রায় ৪৬% রক্তশূন্যতায় ভুগছে (অ্যাক্টা সায়েন্টিফিক পেডিয়াট্রিকসের গবেষণাপত্র অনুযায়ী)।
একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় তার দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকে। তবে প্রিম্যাচুরড বা কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় থেকেই আয়রনের স্বল্পতা থাকে।
একটু একটু করে বেড়ে উঠার সময়টাতে এই বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য একজন শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণেআয়রনের প্রয়োজন হয়। তাই ঠিক কোন কোন কারণে আয়রনের স্বল্পতা হতে পারে তা জানা খুবই জরুরি।
১ বছর বয়সের আগেই যেসব শিশুদের গরু বা ছাগলের দুধ পান করানো হয়।
মায়ের দুধ পান করানোর পাশাপাশি ৬ মাস বয়সের পর থেকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার দেয়া না হলে।
উপাদান হিসেবে আয়রন নেই এমন ফর্মূলা দুধ পান করানোর ফলে।
১-৫ বছর বয়সী শিশু যারা দিনে প্রায় ২৪ আউন্স (৭১০ মিলিলিটার) সমপরিমাণ গরু বা ছাগল বা সয় মিল্ক পান করলে।
বাচ্চারা দীর্ঘদিন যাবত কোনো ধরনের সংক্রমণে ভুগলে।
বারবার সীসার মতো বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শে আসলে।
আয়রন সমৃদ্ধ খাবার না খেলে।
স্থূলতা।
কথায় আছে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই শিশুর শরীরের আয়রনের সঠিক পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে অর্থাৎ রক্তশূন্যতার সমস্যা রোধে কিছু কিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলা উচিত। কারণ প্রতিটি শিশুই সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের অধিকার রাখে।
প্রথমত জন্মের পরপরই যেকাজগুলো করণীয় তা প্রিম্যাচুরড এবং পূর্ণ গর্ভকালীন সময় শেষে ভূমিষ্ট হওয়া শিশুর ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়।
চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী,
পূর্ণ গর্ভকালীন সময় শেষে ভূমিষ্ট হওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে ৪ মাস বয়স থেকে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয় এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু না করা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে বলা হয়। আবার, নবজাতক যদি মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি আয়রন সমৃদ্ধ ফর্মূলা দুধ পান করে তাহলে আলাদা করে আয়রন সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন পড়ে না।
প্রিম্যাচুরড নবজাতক যেহেতু রক্তশূন্যতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে তাই জন্মের ২ সপ্তাহ পর থেকে শুরু করে ১ বছর বয়স পর্যন্ত আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে এক্ষেত্রেও নবজাতক যদি মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি আয়রন সমৃদ্ধ ফর্মূলা দুধ পান করে তাহলে আলাদা করে আয়রন সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন পড়ে না।
এছাড়াও,
৬ মাস বয়সের পর থেকে শিশু যখন বাড়তি খাবার খেতে শুরু করে সেসময় থেকেই নিয়মিত খাবার পাতে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।
১-৫ বছর বয়সী শিশুদের দিনে ২৪ আউন্সের বেশি দুধ পান করতে দেওয়া যাবে না।
ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন সিযুক্ত খাবার দিতে হবে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অবএশিয়াপ্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
