Loading...

শিশুদের বিজয় দিবস

| Updated: December 17, 2021 10:27:25


ফাইল ছবি (সংগৃহীত) ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

প্রকৃতির শ্যামলিমায়, সবুজ চাদরে ঘেরা বাংলাদেশের বুক চিরে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর উঠেছিল নতুন এক সূর্য। বহু ত্যাগের বিনিময়ে সে সূর্যের জন্ম বলে তার রঙ হয় ‘রক্তলাল’। সেই লাল-সবুজের সমন্বয়ে বাংলাদেশের পতাকা বছরের পর বছর ধরে হাওয়ায় উড়ছে, জানান দিচ্ছে এক সাহসী ইতিহাসের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিজয় দিবসের চেতনা সময়ের সাথে সাথে কীভাবে বয়ে চলেছে, তা দেখতেই মূলত আজকের এই লেখা। শিশুমনে বাংলাদেশের বিজয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোন রূপে জাগরুক- চলুন জানা যাক।

ছোট্ট দেয়ালিকা কেজি’র শিক্ষার্থী। হাঁটি হাঁটি পা পা করে ক’দিন আগেই স্কুলজীবন শুরু হলো তার। বিজয় দিবস নিয়ে সে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তার কাছে বিজয় মানে আনন্দ-উল্লাস, আর বিজয় দিবস মানেই এক অদ্ভুত মুক্তির আনন্দ। সে জানায়, এই দিনে তাদের স্কুল সুন্দর করে সাজানো হয়। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন বিষয়ক প্রতিযোগিতা, তাতে অংশ নেবার ইচ্ছা আছে তার। মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধের কথা একটু একটু করে জানতে পারছে সে। শিক্ষকদের কাছ থেকে সে চিনতে শিখেছে জাতির জনককেও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণ কীভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস জুগিয়েছিল, তা ভেবে দোলা খায় তার মনও।  

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অঙ্কন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি তার কাছে স্বাধীনতা। আর বিশ্ব মানচিত্রে এই স্বাধীনতা প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিকতাই তার কাছে বিজয় দিবস হিসেবে পরিচিত। তবে এই দিনে অঙ্কনের জন্য আনন্দ আসে অন্যভাবেও। সে জানায়, “প্রতি বছর এ দিনে স্কুলে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়। রেজাল্ট পাওয়ার পর আমি মামাবাড়ি থেকে ফিরে এসে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। কোনো না কোনো স্থানও অধিকার করি। খুব ভালো লাগে আমার।”

পূর্ণ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। বাকি দু’জনের চেয়ে একটু বেশি সময় ধরে জানতে পেরেছে বিজয় দিবসকে, জানতে শিখেছে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসটাকে। তার কাছে স্বাধীনতার অর্থ জানতে চাইলে সে বলে, “স্বাধীনতার মানে কারো অধীনে না থাকা, নিজের মতো করে বাঁচা। স্বাধীনতা মানে মুক্তি। ১৯৭১ সালের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, বাংলার জনগণের সম্মিলিত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দেশ হিসেবে এই স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই স্বাধীনতার অর্থ আমাদের কাছে গর্বও।”

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে বিজয় দিবসের উদযাপনে তেমন করে অংশ নিতে না পারলেও এ বছর স্কুলের বিশেষ আয়োজন নিয়ে পরিকল্পনা আছে পূর্ণেরও, “করোনার কারণে গত বছর কোনো অনুষ্ঠান না হলেও এর আগের বছরগুলোতে খুব সকালে স্কুলে যেতে হতো। তারপর সবাই একসাথে উপজেলার মাঠে যেতাম। সেখানে কুচকাওয়াজ, সম্মিলিত ডিসপ্লে, সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে সারাটা দিন কেটে যেত। খুব আনন্দ হতো। আশা করছি করোনার প্রকোপ এবারে কিছুটা কমে আসায় আবারো অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারব।”

আজকের কোমলমতি শিশুরা একসময় ভবিষ্যতের হাল ধরবে। অতীত আর ভবিষ্যতের সাঁকো মজবুত হতে হলে বর্তমান গড়ে তোলায় প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে সচেতনতার ভিত্তি। শিশুদেরকে প্রকৃত সত্য জানানোর মাধ্যমে বোঝাতে হবে, বিজয় দিবসের আনন্দের পেছনে থাকা মর্মার্থ- এর ইতিহাস। বিজয় দিবসের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে যাক, স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হোক আমাদের মন।

অনিন্দিতা চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।

anindetamonti3@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic