সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেছেন, “উনি (শামীম ওসমান) কীভাবে (মাঠে) থাকবেন? উনি না একজন সংসদ সদস্য! আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে উনি যদি মাঠে থাকেন।”
নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য শামীম সোমবার রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে ‘দলীয় প্রতীক নৌকার’ পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দেন, যদিও আইভীর সঙ্গে তার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে নৌকার প্রার্থী আইভী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “যেভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে কি আপনি মনে করেন, ভোটের চারদিন আগে তাদের কারো প্রয়োজন আছে? আমাকে আমার ভোটার জনগণকে নিয়েই থাকতে দেন।”
এদিন নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডে খানপুরে গণসংযোগ করেন গত ১০ বছর ধরে সিটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা আইভী।
তিনি বলেন, “আমি আবারো গণমাধ্যমকে বলি, আমার আস্থা সবসময়ই ছিল আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ওপরে। আমার আস্থা আমার দল আওয়ামী লীগের প্রতি, আমার আস্থা জনগণের প্রতি।”
প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের আনা অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন আইভী।
হাতি মার্কার প্রার্থী তৈমুর যেসব অভিযোগ আনছেন, তা ‘চাল বা কৌশল’ কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন নৌকার প্রার্থী।
আইভীর পক্ষে প্রচারে গিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরে সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তৈমুর আলম খন্দকার অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক আমাকে ‘ঘুঁঘুর ফাঁদ’ দেখাবেন বলেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপির নেতাকর্মী ও আমার সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা শুরু হয়েছে। তার বক্তব্যের পর থেকে ঘুঘু ও ঘুঘুর ফাঁদ দেখা শুরু করেছি।”
এ সময় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি ও হয়রানির অভিযোগ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তৈমুর।
তার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে আইভী বলেন, “আমার লোকবল ও প্রশাসন নেই। আমার চেয়ে বেশি দাপটের সঙ্গে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি (তৈমুর)। তিনি কেন এমন অভিযোগ আনছেন, আমি জানি না। এটি তার নতুন কোনো চাল কি-না তা আমি জানি না। হতে পারে, এটা তার কোনো কৌশল বা চাল। আমি নির্বাচনের মাঠেই থাকতে চাই, ভোটারদের নিয়েই আছি।”
তিনি বলেন, “গত ১৮ বছরে নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাকে জানে, আমাকে দেখে আসছে। আমি যা বলি প্রকাশ্যেই বলি। আমি আরো দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেছি, কিন্তু কেউ বলতে পারবে না নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছি।
”প্রশাসন আমাকে কখনো সেভাবে হেল্প করেনি, হঠাৎ করে তারা কেন আমাকে হেল্প করবে? এটা আমি বিশ্বাস করি না। নিশ্চয়ই প্রতিটা নির্বাচনে প্রশাসনের একটা স্ট্যাটেজি থাকে। তারা কী করছে আমি জানি না।”
ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী বলেন, “অপর প্রার্থী কী অভিযোগ করেছেন, সেটি আমার দেখার বিষয় না। প্রশাসন যদি কিছু করে থাকে তারা দেখবে। আমি এই মুহূর্তে ভোটের মাঠে আছি। উনিও (তৈমুর) তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে আছেন। উনি আমার চেয়ে বেশি দাপটের সঙ্গে নির্বাচনে প্রচার চালাচ্ছেন।”
