শাবি উপাচার্যকে ‘দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন’ শিক্ষামন্ত্রী


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: February 12, 2022 10:24:55 | Updated: February 12, 2022 14:56:01


শাবি উপাচার্যকে ‘দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন’ শিক্ষামন্ত্রী

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে তাকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

শুক্রবার রাতেউপাচার্যের কার্যালয়ে ওই বৈঠক থেকে বের হয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার সিলেট আসেন।

বিকালে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একদল প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন।

বৈঠক শেষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। আর এ দিবসের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য উপাচার্যকে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

কোষাধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষকদের সাথে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন এই ঘটনা আপনার নির্দেশে ঘটুক, আর না ঘটুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবে এর দায় দায়িত্ব আপনার ওপর এসে পড়ে। সে জায়গায় আমি হলে আমিও দুঃখ প্রকাশ করতাম। আপনি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করবেন। উপাচার্য সেটাই করেছেন।

এদিকে, মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

মন্ত্রীর সঙ্গে উপাচার্যের বৈঠক শেষে রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আমাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।তিনি আমাদের দাবিগুলোর অনেকগুলোই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াছির সরকার বলেন, আমাদের আন্দোলন শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এর আগে আমরা আলোচনা করব সবাই মিলে। বিকাল ৪টার পর সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন চলবে কি চলবে না সে বিষয়টি জানানো হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি ও আট দফা প্রস্তাবনা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন তারা।

দাবিগুলো হল-দ্রুততম সময়ে জনাব ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে একজন গবেষণামনা, শিক্ষাবিদ ও অবিতর্কিত ব্যক্তিকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া; সকল প্রশাসনিক পদে যোগ্য ব্যক্তিদের আনা; শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলাগুলো তুলে নেওয়া; শিক্ষার্থীদের সকল অনলাইন লেনদেনের একাউন্ট খুলে দেওয়া; এবং পুলিশি হামলার শিকার শিক্ষার্থী সজল কুন্ডুকে এককালীন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাকে যোগ্যতা অনুযায়ী অন্তত ৯ম গ্রেডের স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়া।

এছাড়া আটটি প্রস্তাবনা হলো- বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভ্যন্তরীণ বার্ষিক বাজেটের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ গবেষণা খাতে বরাদ্দ করা; বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নূন্যতম যোগ্যতা পিএইচডি করা; শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডেমো ক্লাস নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ন্যূনতম ইভালুয়েশন নেওয়া; নিয়োগকৃত শিক্ষকদের যোগ দেওয়ার আগে একটা আবশ্যিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা; দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গোপনীয় কোড ব্যবস্থা চালু করা; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পুলিশের জন্য বসানো স্থায়ী স্থাপনা অপসারণ; সকল আবাসিক হলে ৩৬৫ দিনই সব সুযোগ-সুবিধাসহ খোলা রাখা; এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা সকলের জন্য উন্মুক্ত করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা।

এর জেরে ১৬ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠির পাশাপাশি কাঁদুনে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।

এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন; এক পর্যায়ে তারা আমরণ অনশনে বসেন।

২৬ জানুয়ারি সেই অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক। অনশন ভাঙলেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

অনশন চলার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধিরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী নিজেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে গিয়ে সব শোনার অনুরোধ জানিয়েছিল মন্ত্রীর কাছে।

শুক্রবার সিলেটে পৌঁছে বিকালে শিক্ষার্থীদের ১১ প্রতিনিধির সঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেন দীপু মনি।

বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্যের অপসারণে শিক্ষার্থীদের দাবির কথা তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পৌঁছে দেবেন।

আচার্যই একজন উপাচার্যকে নিয়োগ দেন কিংবা অপসারণ করেন, অতএব আমরা আচার্যকে অবহিত করব। বাকি সিদ্ধান্ত মহামান্য আচার্য গ্রহণ করবেন।

সন্ধ্যায় উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষও একই কথা বলেন।

উপাচার্যকে আচার্য সরাবেন কি সরাবেন না- সেটা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড যাতে অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী, বলেন অধ্যাপক আনোয়ারুল।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ২৬ দিন পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তার বাসভবনের বাইরে আসেন এদিন।

মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করেন সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সেখানে যান।

বৈঠক শেষে আবার নিরাপত্তার মধ্যে উপাচার্য অফিস ত্যাগ করেন এবং মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

অন্যদের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

Share if you like