ছাত্রজীবন থেকে নিজের লেখা প্রকাশ করে পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর স্বপ্ন থাকে অনেকেরই। তবে অনেকক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত তথ্য ও সহযোগিতার অভাবে এই স্বপ্নটি অধরাই থেকে যায়। লেখক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের জন্য কিছু কথা জেনে নেওয়া যাক।
রহমাতুল্লাহ রাফি বর্তমানে লেখালেখির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি বলেন, “একজন লেখক যখন কোনো বিষয়ে লিখতে চান, তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে বিষয়ে তিনি লিখছেন, সে বিষয়টি সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা। কারণ বইটি পড়ে পাঠক যদি বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে না পারে সেক্ষেত্রে বইটি গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।”
“পাশাপাশি লেখার গুণগত মান, শব্দচয়ন, আলংকারিক প্রয়োগ, ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা এবং একইসাথে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন। ছোটগল্প কিংবা কবিতার বইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি গল্প বা কবিতা অতিরিক্ত তৈরি করা থাকলে মূল পাণ্ডুলিপি তৈরির সময় সেখান থেকে বাছাই করে ভালো গল্প বা কবিতাগুলো নির্ধারণ করা সহজ হয়।”
বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরির পর একজন লেখককে প্রকাশনা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে ভালো কিংবা নামকরা কোনো প্রকাশনীর অধীনে বই প্রকাশ করা গেলে পাঠকদের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়। বর্তমানে বেশ কিছু অনলাইন সংস্থাও বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে, তাই সে সুযোগটিও কাজে লাগানো যায়।
কোন নির্দিষ্ট দিবস কিংবা উৎসবকে কেন্দ্র করে লেখা বা বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কতদিন আগে থেকে লেখালেখি শুরু করা উচিত?
রাফি মনে করেন, “এ বিষয়টি একেক লেখকের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কখনো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লেখক তার লেখা বা বইয়ের পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। আবার অনেকসময় বইয়ে বিভিন্ন বিষয়বস্তু সংযোজন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।”
একটি বইকে কীভাবে পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়; তা নিয়ে লেখকদের মধ্য থেকে আরো কথা হয় শাহরিয়ার জাওয়াদ এর সাথে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছেন, করছেন লেখালেখিও।
শাহরিয়ার বলেন, যত সুন্দর এবং স্পষ্ট করে বা সাবলীলভাবে লেখক লেখার উপজীব্য তার বইতে তুলে ধরতে পারবেন, বইটি তত বেশি জনপ্রিয়তা পাবে। তাছাড়া বইয়ের বিষয়বস্তু মানসম্মত না হলে পাঠকরা পরবর্তীতে আর সে লেখকের বই পড়তে চান না।”
দ্য ইকোনোমিস্ট সাময়িকীর ভাষাগুরু হিসেবে খ্যাত লেন গ্রিন, একইসাথে একজন সাবেক আর্টস সম্পাদক এবং কলামিস্ট। তিনি একজন ভালো লেখক হওয়ার জন্য ৭টি বিষয়ে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
১. লেখার শুরুটি কোনো একটি ঘটনা বর্ণনা বা উদাহরণ দিয়ে করুন যা পাঠককে আপনার লেখাটি পড়তে আগ্রহী করে তুলবে।
২. খুব বেশি দীর্ঘ ও জটিল বাক্য ব্যবহার না করে অপেক্ষাকৃত ছোট বাক্য লেখার চেষ্টা করুন।
৩. ছোট বাক্য বেশি ব্যবহার করলেও পাঠকের মনোযোগ বাড়াতে মাঝে মাঝে দীর্ঘ বাক্যও ব্যবহার করুন।
৪. লেখায় সঠিক, প্রচলিত ও আকর্ষণীয় শব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
৫. যেসব শব্দ পাঠকদের কাছে খুব বেশি পরিচিত নয় সেসব শব্দ এড়িয়ে চলুন।
৬. নিজের লেখাটি জোরে জোরে পড়া প্রয়োজন যাতে করে শব্দচয়নে কোনো ভুল থাকলে তা সহজেই ধরা পড়ে।
৭. লেখার শেষটা কোনো আকর্ষণীয় কায়দায় করা উচিত।
যেকোনো কাজে সফল হতে গেলে প্রয়োজন ধৈর্য এবং একাগ্রতা। একইভাবে একজন লেখকের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার পর একজন সফল লেখক হিসেবে আত্নপ্রকাশ করা সম্ভব হয়। তাই ধৈর্য ও একাগ্রতার সাথে কাজ করে গেলে লেখক হওয়ার স্বপ্নপূরণ খুব কঠিন কিছু নয়।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
tanjimhasan001@gmail.com
