ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের বিমানবন্দরের কাছে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে নগরীর মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানিয়েছেন।
তবে বিমানবন্দরে হামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম টেলিগ্রাম অ্যাপে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবে বিমানবন্দরে হামলা হয়নি।
সাদোভি জানিয়েছেন, একটি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ প্ল্যান্টে হামলাটি হয়েছে। তবে শেষ খবর পর্যন্ত হতাতহের কোনো খবর হয়নি। উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত প্ল্যান্টটিতে কাজ শুরু করেছে।
এর আগে টেলিভিশন স্টেশন ইউক্রেইন টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, শহরটিতে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিবিসির প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, এ হামলার আগে স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে লভিভজুড়ে বিমান হামলার সঙ্কেত বেজে ওঠে। এর পরপরই নগরীর কেন্দ্রস্থল থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বিমানবন্দরের দিকে থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার ভেতরের লভিভ ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পশ্চিমে অনেকটা দূরে। তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল রাশিয়ার আক্রমণ থেকে অনেকটাই মুক্ত আছে।
রাশিয়ার এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরটি নিশ্চিত হলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ঐতিহাসিক এ শহরটির সবচেয়ে কাছে হামলার ঘটনা হবে এটি।
বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এ হামলার আগে পর্যন্ত লভিভকে একটি নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পোল্যান্ড হয়ে ইউক্রেইনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে রুশ বাহিনী হামলাটি চালিয়েছে। এ রুটটি ইউক্রেইনে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের প্রধান পথ।
এর পাঁচ দিন আগে রোববার লভিভ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পোল্যান্ড সীমান্তের নিকটবর্তী ইয়াভোরিভের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রুশ বাহিনীর একই ধরনের হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছিল। ওই হামলার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
শুক্রবার সকালে ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অনেকগুলো অঞ্চলে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। এসব অঞ্চলের মধ্যে রিভনে, ভোলিন, লিভভ, তেরনোপিল ও ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক উল্লেখযোগ্য।