Loading...

লকডাউনেও যানবাহনে সয়লাব ঢাকার সড়ক

| Updated: April 27, 2021 20:17:31


লকডাউনেও যানবাহনে সয়লাব ঢাকার সড়ক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান ‘লকডাউনে’ গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে সয়লাব হয়ে গেছে ঢাকার রাজপথ।

মঙ্গলবার লকডাউনের ১৪তম দিনে রামপুরা, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন, মগবাজার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে যানজটের দৃশ্য।

দেদারছে চলছে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মিনি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, রিকশা, ঠেলাগাড়ি; ফুটপাতেও বেড়েছে সাধারণ মানুষের চলাচল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

বিজয়নগরের কাছে প্রাইভেটকার চালক মোকাররম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গুলশান থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় রওনা হয়ে কাকরাইলে আসতে সময় লেগেছে পাক্কা দেড় ঘণ্টা। গুলশান, মহাখালী, সাত রাস্তার মোড়, মগবাজার ফ্লাইওভার, কাকরাইল মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে অনেকক্ষণ থেমে থাকতে হয়েছে যানজটে।

“লকডাউন আর স্বাভাবিক সময়ের গাড়ি চালানোর মধ্যে আমি আর কোনো পার্থক্য দেখি না স্যার।”


১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ জারি করে সরকার। পরে এক দফা বাড়ানোর পর বুধবার রাত ১২টায় শেষ হবে। সোমবার এই বিধিনিষেধ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো কথাও সরকার ঘোষণা করেছে।

লকডাউনের শুরুতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি বসানো হলেও মঙ্গলবার সেসব জায়গায় কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি; পুলিশ সদস্যরা আগের মতো যানবাহন থামিয়ে ‘মুভেমেন্ট পাস’ দেখছেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “রাস্তায় প্রাইভেটকারে সয়লাব হয়ে গেছে। দেখবেন অনেকে নেমেছে মুভমেন্ট পাস নিয়ে। লকডাউনে এই যদি অবস্থা হয় তাহলে গণপরিবহন চালু করলে কি হবে একটু ভেবে দেখুন।

“ঢাকার রাস্তায় এরকম যানবাহন চলতে থাকলে আমি মনে করি সরকার যত প্রচারণাই করুক না কেনো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলার ফলাফল নেগেটিভ থাকবে।”


কাকরাইলের নাইটিঙ্গেলের কাছে যখন হাবিবুর রহমানের সাথে কথা হচ্ছিল তখন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের একটি প্রচারণার গাড়ির মাইক থেকে বলা হচ্ছিল, ‘সকলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, মুখে মাস্ক পড়ুন’।

মালিবাগের মোড়ে খালি রিকশার কমতি নেই। রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, “এতো রিকশা নামছে, এতো মোটর সাইকেল নামছে, আমাগো কপাল পুড়ছে। আগে দিনে ৩০০/২৫০ টাকা কামাই হইতো। এখন কাস্টমার কম, কমাইও কমে গেছে।”

দোকান-পাট-শপিংমলসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এই লকডাউনে। দ্বিতীয় দিন থেকে তিন ঘণ্টার জন্য খোলা রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের লেনদেন।

লকডাউনের প্রথম দিন ঢাকা শহর বলতে গেলে একরকম ফাঁকা ছিল। কড়াকড়ি থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে চিত্র পাল্টাতে থাকে। অল্প সংখ্যায় রিকশা রাস্তায় নামে। ১৪তম দিনে মনে হয় না ঢাকায় লকডাউন চলছে।

নয়া পল্টন লেনের বাসিন্দা রেজাউল করীম বলেন, “যেভাবে ঢাকার রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া নেমেছে। যানবাহনের জট দেখা যাচ্ছে মোড়ে মোড়ে। শপিংমল খোলা, দোকান-পাট খোলা। এটাকে কী লকডাউন বলা যায়?”

Share if you like

Filter By Topic