Loading...

রোজার দিনে গর্ভবতী নারীর খাবার যেমন হবে

| Updated: April 21, 2022 14:40:59


ছবিঃ সংগৃহীত ছবিঃ সংগৃহীত

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি দিন, প্রতিটি মূহুর্ত, প্রতিটি পদক্ষেপই যেন খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সতর্কতার। নিজের এবং গর্ভস্থ সন্তানের কথা মাথায় রেখে নিয়ম মেনে চলতে হয় পুরোটা সময়। অন্যান্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি খাদ্যাভাসের বিষয়টি খুব সচেতনভাবে মাথায় রাখতে হয়। আর এখন যেহেতু পবিত্র রমজান মাস চলছে তাই রোজাদার প্রতিটি গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে খাবারদাবারের ব্যাপারে রাখতে হবে একটু বাড়তি খেয়াল।

তবে রোজা রাখার পূর্বে রোজাদার হিসেবে একজন গর্ভবতী নারী কতটুকু ফিট রয়েছেন বা গর্ভের সন্তানের উপর কেমন প্রভাব পড়বে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিতে হবে।

রমজান মাসে একজন গর্ভবতী নারীর খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রভাষক, সম্পা রেজা একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সেহরি ও ইফতার কেমন হবে?

সেহরি

প্রতিদিনের রোজার শুরুতে সেহরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোনোভাবেই সেহরি বাদ দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে যে, এই সময়ে গ্রহণকৃত খাবারগুলোই কিন্তু ইফতারের  আগ পর্যন্ত পুরোটা সময়জুড়ে গর্ভস্থ সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করবে। যে খাবারগুলো খেলে প্রচুর এনার্জি পাওয়া যায় (শস্য দানা জাতীয় খাবার, যেমন: গমের আটার রুটি, লাল চালের ভাত, ওটস) এবং ফাইবার (যেমন: ফলমূল ও ড্রাই ফ্রুটস) ও প্রোটিন (যেমন: মুরগী, দুধ, ডিম, শিম, মটরশুঁটি, মসুর ডাল ও বাদাম) সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।

ইফতার

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় সর্বপ্রথম মিষ্টি জাতীয় খাবার, যেমন: তাজা ফল বা ড্রাই ফ্রুটস (যেমন: খেজুর) গ্রহণ করতে হবে যাতে করে শরীর দ্রুত সেগুলো থেকে এনার্জি গ্রহণ করতে পারে। কোনো ধরনের এলার্জি বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা না থাকলে দুধ পান করা যেতে পারে। একে তো দুধের পুষ্টিগুণ অনেক, তাছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দুধ পানের নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। পাতা জাতীয় শাকসবজিতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে তাই বিভিন্ন পদে ধনেপাতা, পুদিনাপাতা যোগ করা যেতে পারে। ইফতারে একজন গর্ভবতী নারীর পুষ্টি চাহিদার কথা মাথায় রেখে কানাডা সরকার প্রদত্ত এই ‘ফুড গাইডটি’ মেনে চলা আবশ্যক।

তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে বেক করা বা ভাপানো খাবার খেতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার হজম হতে বেশি সময় লাগে।

অধিক চিনিযুক্ত খাবার, যেমন: কেক বা বিস্কুটের পরিবর্তে দুগ্ধজাত খাবার বা তাজা বা শুকনো ফল গ্রহণ করতে হবে। কারণ অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার হঠাৎ করে রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।

ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন: চা বা কফির পরিবর্তে দুধ, পানি বা তাজা ফলের রস পান করতে হবে। কারণ ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে।

ইফতারের পর জেগে থাকা অবস্থায় প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

এ তো গেলো সেহরি ও ইফতারির পাতে কেমন খাবার থাকা উচিত সে বিষয়ে কিছু কথা। এছাড়াও আরো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে যায়।

প্রচুর পানি বা তরল খাবার গ্রহণ করা

গর্ভাবস্থায় প্রচুর পানি করতে হয়। কোনোভাবেই শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। কারণ প্লাসেন্টাতে পানির স্বল্পতা দেখা দিলে গর্ভস্থ শিশুর দেহে পুষ্টি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটবে। রোজা সাধারণত গরম মৌসুমেই বেশি হয়, তাই ইফতার আর সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে প্রচুর পানি বা লেবুর শরবত বা ডাবের পানি বা ফলের রস পান করতে হবে।

পরিমিত আহার

এমনটা নয় যে সারাদিন রোজা শেষে ইফতারে প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। একজন গর্ভবতী নারী ঠিক যতটা খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ঠিক ততটাই খাবেন। অহেতুক জোরপূর্বক বা অনিচ্ছাসত্ত্বে খেলে তা বদহজম বা স্থূলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি  অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic