বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নূরুল হক নূর বলেছেন তিনি এ ঘোষণা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
তিনি জানান, যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছিলেন তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শনিবার রাতে ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে `সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’অভিযোগ এনে তিনি কমিটি বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন।
রোববার বিকালে নুরুল হক নূর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। তাই আমরা পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে এটি মীমাংসা করে ফেলেছি। কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে যে ঘোষণা ছিল, তা উইথড্র করে নিচ্ছি। শিগগিরই প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।”
৩০ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, তা বহাল থাকবে বলে জানান নূর। এই সময়ের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে নুরুল হক নূর নিজেকে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের 'সমন্বয়ক' দাবি করে শনিবার মধ্যরাতে ফেইসবুকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলেন, রাশেদ খাঁন ও মো. সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে `সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’অভিযোগ আসায় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে’ কমিটি গঠন করতে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এরপর পাল্টা এক বিজ্ঞপ্তিতে রাশেদ খাঁন বলেন, “যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নুরুল হক নূরের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার নেই। ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের ‘সমন্বয়ক’ পদবি ব্যবহার করায় নূরের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই মর্মে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হল।”
এরপর রোববার বিকালে মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি থেকে ক্ষমা চেয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টিকে ‘নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে বলে দাবি করেন।
রাশেদ খাঁন লেখেন, “দেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা বয়সে তরুণ, যে কারণে মাঝে মাঝে বক্তব্য, কথা, কাজের মধ্যে ভুল করে বসি। নূর ও আমার মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটা আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান হয়েছে।
“দেশের মানুষকে আমরা অভিভাবক মনে করি। আমাদের ভুল হলে অবশ্যই সমালোচনা করবেন, পরামর্শ দিবেন, যাতে শুধরিয়ে নিয়ে নিজেদের পরিপক্ক হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। ভবিষ্যতে নিজেরা চলার পথে আরও বেশি সতর্ক থাকব।”
সরকারি চাকরির কোটা সংরক্ষণের বিরোধিতায় গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৮ সালে আলোচনায় আসে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। পরে এর নাম পাল্টে ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ করা হয়।
২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন এ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর। পরে তাকে মূল ধারার বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মিলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়।
