রাশিয়ার বিরুদ্ধে কেন ভোট দেয়নি বাংলাদেশ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: March 30, 2022 17:25:29


রাশিয়ার বিরুদ্ধে কেন ভোট দেয়নি বাংলাদেশ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেইনে আগ্রাসনের পর রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে তোলা প্রস্তাবে বাংলাদেশ কেন ভোটদানে বিরত ছিল, পরে ইউক্রেইনে মানবিক সংকট নিরসনের দাবিতে কেন ভোট দিল, সেই ব্যাখ্যা সংসদে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের পেছনে উসকানি ছিল, সে কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যখন প্রস্তাব তোলা হল, বাংলাদেশ তাতে ভোট দেয়নি। তবে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ইউক্রেনের মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে হওয়ার বাংলাদেশ পক্ষে ভোট দিয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে রাশিয়ার অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে দেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু জানতে চেয়েছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘে ভোটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আসলে কী ছিল।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরুর পর মার্চ মাসের শুরুতে রাশিয়াকে আক্রমণ বন্ধ করে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল ১৪১ দেশ, বাংলাদেশসহ ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

তবে গত ২৪ মার্চ ইউক্রেইনে রাশিয়ার হামলার কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটের অবসানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রমের সুযোগ দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় বাংলাদেশ।

সংসদে প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের প্রথম প্রস্তাবে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘে যখন প্রথম প্রস্তাবটি এল, আমরা দেখলাম সেই প্রস্তাবে কোনো মানবাধিকারের কথা নেই। যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা নেই। একটা দেশের বিরুদ্ধে ভোট, সেটা হল রাশিয়া।

তখন আমি বললাম, না, এখানে তো আমরা ভোট দেব না। কারণ যুদ্ধ তো একা একা বাঁধে না। উসকানি তো কেউ না কেউ দিচ্ছে। দিয়ে তো বাঁধাল যুদ্ধটা। তাহলে একটা দেশকে নিন্দা করা হবে কেন? সেইজন্য আমরা ভোটদানে বিরত ছিলাম।

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ বন্ধুত্বের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে যখন পাকিস্তানের পক্ষে; রাশিয়া তখন আমাদের পক্ষে দাঁড়াল। কাজেই দুঃসময়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা নিশ্চয় তাদের পাশে থাকব।

কিন্তু তারা যদি কোনো অন্যায় করে, নিশ্চয় সেটা আমরা মানব না। আর আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু যুদ্ধটা বাঁধাল কারা, সেটাও আমাদের দেখতে হবে। সেজন্য আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। যেহেতু একটি দেশের বিরুদ্ধে, এজন্য সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা ভোট দেব না।

Share if you like