দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে খুব কম লোকই জানে। একইভাবে সুস্থ থাকা অবস্থায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মাঝেই এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করে।
শরীরের নানা অঙ্গ, কোষ এবং দেহে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঢাল হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতিকারক নানা পদার্থ বা জীবাণুর হাত থেকে দেহকে সুরক্ষা প্রদান করে; অন্যকথায় সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
কোনো কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দূর্বল হয়ে পড়লে অসুস্থতার নানা উপসর্গ দেখা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পুনরায় চাঙ্গা করে তোলার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ পাওয়া যায় তবে তা সেবন করার চেয়ে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়াকে প্রাধান্য দেন চিকিৎসকেরা।
যেমন অনেক পেশাদার খেলোয়াড়ের ব্লাড ডোপিং এর কথা শোনা যায়। দেহে বাইরে থেকে রক্ত প্রবেশ করানো হয় যার কারণে রক্তকোষের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং পেশীতে অধিক অক্সিজেন সরবরাহ হয়; ফলশ্রুতিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু এর মারাত্মক একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে; স্ট্রোকের ঝুঁকি।
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসের অনুশীলন এবং সঠিক খাওয়াদাওয়ার ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি বেশি রঙিন তাজা শাকসবজি ও ফলমূল রাখতে হবে।
- পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
- প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। ধূমপানের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সবাই অবগত তবে সিগারেটের উপাদানসমূহের সবচেয়ে ক্ষতিকারক দিক হচ্ছে এই উপাদানগুলো শরীরের অ্যান্টিবডিগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে এবং এর তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকেও স্তিমিত করে দেয়।
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে।
- বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতে হবে। স্থূলতা অনেক রোগের (হাড়ে ব্যথা থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের বিবিধ অসুখ) পূর্বশর্ত।
- দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে, যেমন - মেডিটেশন, মন খুলে কথা বলা, যোগব্যায়াম, বই পড়া, পছন্দের গান শোনা, পছন্দের কাজগুলো করা। দুশ্চিন্তার ফলে শরীরে নানা রকম ইনফ্ল্যামেশন হয়ে থাকে এবং এই ইনফ্ল্যামেশনগুলো ধীরে ধীরে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দূর্বল করে দেয়।
- পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। দ্য ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাত থেকে নয় ঘন্টা ঘুমানো উচিত।
- সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার পরিচ্ছনতা বজায় রাখতে হবে যেমন বারে বারে হাত ধুতে হবে।
- সাধারণত যে টিকাগুলো গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া থাকে সেগুলো গ্রহণ করতে হবে।
- স্বাস্থ্যসম্মত আহার করতে হবে। দ্য ফিজিশিয়ানস কমিটি ফর রিসপনসিবল মেডিসিনের তথ্যানুযায়ী লো-ফ্যাট জাতীয় খাবার দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো দৃঢ় করে তোলে। শিম, ব্রকলি, ডিম, পাতা জাতীয় সবজি, যেমন পালংশাক, বাধাকপি; বাদাম, শস্যদানা, দুগ্ধজাতীয় খাবার, চর্বিহীন মাংস, মুরগী, টকদই, এ জাতীয় খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকে সংস্থাটি।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com