শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অলিম্পিক লরেল’সম্মাননায় ভূষিত করলো আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি।
ইউনুস সেন্টার থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শুক্রবার জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমস টোকিও ২০২০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য যে, ক্রীড়ার মাধ্যমে শিক্ষা, সংস্কৃতি, উন্নয়ন ও শান্তিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে থাকে। প্রফেসর ইউনূস দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করলেন।
সম্মাননা গ্রহণসূচক বক্তব্যে প্রফেসর ইউনূস বলেন, “অলিম্পিক লরেল গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত ও অভিভূত বোধ করছি। আমি দুঃখিত যে, আমি আপনাদের সাথে সেখানে সশরীরে উপস্থিত হতে পারিনি। ”
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ক্রীড়ার সামাজিক মাত্রার দিকটিকে খুবই গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে।
“আপনারা, পৃথিবীর অ্যাথলেটরা, পৃথিবীকে বদলে দেবার কাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং একটি ‘তিন শূন্য’র পৃথিবী - শূন্য নীট কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র চিরতরে দূর করতে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং প্রতিটি মানুষের সহজাত উদ্যোক্তা-শক্তি বিকাশের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শূন্য বেকারত্বের একটি নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করতে পারেন,” বলেন এই নোবেলজয়ী।
“ক্রীড়ার মাধ্যমে একটি অধিকতর শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির যে মিশন আমি তার সাফল্য কামনা করি। একই সাথে আমি প্রতিযোগিতায় সকলের সর্বোচ্চ সাফল্য কামনা করছি।”
প্রফেসর ইউনূসকে ক্রীড়ার মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে তাঁর বিপুল কর্মকান্ডের জন্য এই “অলিম্পিক লরেল” প্রদান করা হলো যার মধ্যে রয়েছে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে সামাজিক সমস্যাসমূহের সমাধানে “ইউনূস স্পোর্টস হাব” নামে একটি বৈশ্বিক সামাজিক ব্যবসা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা।
এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বেশ কয়েকটি প্রকল্পে সহায়তা করছেন, যেমন - আইওসি ইয়ং লীডার্স প্রোগ্রাম, “ইমাজিন” পিস ইয়্যুথ ক্যাম্প, এবং অ্যাথলেট৩৬৫ বিজনেস অ্যাকসিলারেটর যা অলিম্পিয়ানদের ক্যারিয়ার উত্তরণে সহায়তা করতে প্রথম ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোক্তা কর্মসূচি।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট টমাস বাখ বলেন, “অলিম্পিক লরেলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আধুনিক অলিম্পিক গেমসের প্রতিষ্ঠাতা ও পুনঃপ্রবর্তক ব্যারন পিয়েরে দ্য কুবার্তার রূপকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এটি একই সাথে প্রাচীন অলিম্পিক গেমসের আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতিফলনও বটে, যার অন্যতম লক্ষ্য শান্তি ও ক্রীড়ার মধ্য দিয়ে সমাজের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা।”
তিনি আরো বলেন, “এই আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রফেসর ইউনূসের কাজ দৃষ্টান্তমূলক। তিনি উদারভাবে তাঁর বিপুল জ্ঞানভান্ডার দিয়ে খেলোয়াড় ও অলিম্পিক কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করছেন। আমাদের সকলের কাছে তিনি এক বিশাল প্রেরণা। তিনি খেলোয়াড়দেরকে তাঁদের খেলা-পরবর্তী জীবনে সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্যবসা উদ্যোক্তায় পরিণত হতে সহায়তা করছেন এবং এভাবে জাতি সংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহে অবদান রাখার ক্ষেত্রে আমাদের মূল্যবোধকে তুলে ধরছেন। ”
