Loading...

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমাতে গুলি, নিহত কমপক্ষে সাত  

| Updated: March 02, 2021 09:52:22


মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমাতে গুলি, নিহত কমপক্ষে সাত  

রোববার পুলিশের গুলিতে অন্তত সাত প্রতিবাদকারী নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির একজন চিকিৎসক ও একজন রাজনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর। 

রোববার পুলিশের গুলিতে অন্তত সাত প্রতিবাদকারী নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির একজন চিকিৎসক ও একজন রাজনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গনে কয়েকজন লোককে ধরাধরি করে প্রতিবাদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাদের কয়েকজনের দেহ রক্তাক্ত।

তারা কীভাবে আঘাত পেয়েছেন তা পরিষ্কার না হলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাজা গুলির কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমার নাও গণমাধ্যম গোষ্ঠী জানিয়েছে, লোকজনকে ‘গুলি করা’ হচ্ছে; কিন্তু বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি তারা। 

ইয়াঙ্গনের বিভিন্ন অংশে স্টান গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে। 

বুকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে বলে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন। মিজিমা গণমাধ্যমের চ্যানেলও এই মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ স্টান গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করছে এবং গুলি ছুড়ছে।

শহরটিতে শিক্ষকদের একটি প্রতিবাদ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় এখানে এক নারী মারা যান। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি বলে ওই নারীর কন্যা ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাউইয়েও পুলিশ গুলি করেছে। এখানে তিন জন নিহত ও বেশ কয়েকজনকে আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় রাজনীতিক কিয়াও মিন হটিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

গণমাধ্যম ইরাবতী অনলাইনের প্রতিবেদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়েও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এখানেও সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ।

মধ্যাঞ্চলীয় শহর বাগোতে পুলিশের দমনাভিযানের মধ্যে অন্তত দুই জন নিহত হয়েছেন বলে একটি দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে।  

উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর লাশিও এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মায়িকেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মিয়ানমার যুদ্ধক্ষেত্রের মতো হয়ে গেছে,” টুইটারে বলেছেন বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির প্রথম ক্যাথলিক কার্ডিনাল চার্লস মাউং বো।  

এসব বিষয়ে মন্তব্য নেওয়ার জন্য পুলিশ ও ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের মুখপাত্রকে ফোন করা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ব্যাপক জয় পেলেও তার স্বীকৃতি না দিয়ে সেনাবাহিনী নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা দখল করে। নির্বাচিত নেত্র্রী সু চি ও এনএলডির অধিকাংশ নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারবন্দি করে রাখে। এর পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে অস্থিরতা চলছে।

অভ্যুত্থানের পর থেকে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিন সামরিক শাসন বিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। কোনো কোনো দিন বিক্ষোভে লাখো প্রতিবাদকারী যোগ দিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলো অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে, কয়েকটি দেশ সীমিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।

দেশটির সামরিক বাহিনী প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, প্রতিবাদ মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করছে এবং পুলিশ রবার বুলেট ব্যবহারের মতো ন্যূনতম শক্তি ব্যবহার করছে।

তারপরও প্রতিবাদ সমাবেশগুলোকে ঘিরে সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত আট বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী একজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে।

 

 

Share if you like

Filter By Topic