মাংকিপক্স: আতঙ্কে বিশ্ব


শবনম জাবীন জেবা | Published: May 26, 2022 18:57:24 | Updated: May 27, 2022 17:37:31


মাংকিপক্স: আতঙ্কে বিশ্ব

সম্প্রতি খবরের কাগজ, টিভির পর্দা, বিভিন্ন সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যম ও গবেষকদের গবেষণা বা অনুসন্ধানে মাংকিপক্স শব্দটি বেশ পরিচিত হয়েছে। এটি একটি বিরল রোগ। মাংকিপক্স ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে এই রোগ হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ মে থেকে বিশ্বের মোট ১২ টি দেশে এই রোগের সংক্রমণের কথা জানা গেছে।

১৩ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী মোট আক্রান্ত এবং সন্দেহের তালিকায় রয়েছে এমন সংখ্যার ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন একটি জরিপ প্রকাশ করেছে।


২০২২ সালেই যে সর্বপ্রথম মাংকিপক্সের সংক্রমণ ঘটেছে, ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও সেরকম নয়। মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম সংক্রমণ হয় ১৯৭০ সালের দিকে। তখন অবশ্য এই রোগটি কেবলমাত্র মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে কঙ্গোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি ছিল।

বলা হয়ে থাকে, আফ্রিকা থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে যাতায়াত এবং পশুপাখি রপ্তানি করার ফলে তা আফ্রিকার বাইরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন - যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য।

গুটিবসন্ত, জলবসন্ত এরকম নাম না হয়ে এর নাম মাংকিপক্স কেন হলো এ প্রশ্নটা মনে জাগতেই পারে।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে ফিরে যেতে হবে সেই ১৯৫৮ সালে। ড্যানিশ ল্যাবরেটরিতে গবেষণার জন্য রাখা একদল বানরের মধ্যে সর্বপ্রথম এই পক্সের সংক্রমণ দেখা যায়। আর সেই সময় থেকেই এর নামকরণ হয় মাংকিপক্স।

অনেকে গুটিবসন্তের সাথে মাংকিপক্সকে মিলিয়ে ফেলছেন। তাই লক্ষণ এবং সংক্রমণের কারণগুলো সম্পর্কে জানা দরকার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এটি গুটিবসন্তের মতো অতোটা মারাত্মক নয় এবং সংক্রমণের হারও তুলনামূলকভাবে কম। আর একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। মাংকিপক্সে আক্রান্ত হলে লিম্ফনোড ফুলে যায়, কিন্তু গুটিবসন্তের ক্ষেত্রে তা হয় না।

মূলত আক্রান্ত প্রাণী বা মানুষের ত্বকের ক্ষত বা শরীর থেকে নিঃসৃত কষের সংস্পর্শে এলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সমকামি পুরুষদের মধ্যে যৌন সম্পর্কের ফলেও সংক্রমণ হচ্ছে।

আর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর (শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪഼ ফারেনহাইটের চেয়ে বেশি), মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, লিম্ফনোড ফুলে যাওয়া। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ১ - ৩ দিনের (কারো কারো ক্ষেত্রে বেশিও হতে পারে) মধ্যেই প্রথমে মুখে র‍্যাশ দেখা দেয় এবং পরে তা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরে দেখা দেয় ফুসকুড়ি।

যেকোনো রোগের সংক্রমণ ঘটলে আক্রান্তদের মৃত্যুহারের বিষয়টিও জিজ্ঞাস্য হয়ে উঠে। চিকিৎসাবিদদের মতে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ১ - ১১%। সাধারণত একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ২-৪ সপ্তাহের মধ্যেই সেরে উঠে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মাংকিপক্স শনাক্ত হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোয় বিদেশফেরত ব্যক্তিদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ স্ক্রিনিং ব্যবস্থা।

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like