করোনাভাইরাস মহামারী থেকে মুক্তি এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনার যিশুর আগমনী দিন উদযাপন করছে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
মহামারীকালে বিশ্বজুড়েই বড়দিনের আয়োজন চলছে জনসমাগম সীমিত রেখে; স্বাস্থ্য বিধি মেনে পালন করা হচ্ছে গির্জায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
শনিবার সকাল ৮টায় কাকরাইলের সেন্ট মেরিস গির্জায় প্রার্থনা শুরু হয়ে ৯টায় শেষ হয়। প্রার্থনায় যাযক বলেন, “বিশ্বব্যাপী সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি হোক। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর মানুষের শান্তি বজায় থাকুক।”
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি এবং জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুকেও স্মরণ করা হয় প্রার্থনায়।
মহামারীর কারণে বড়দিনের আয়োজনে এবার চাকচিক্যও কম। মাস্ক ছাড়া কেউ গির্জায় ঢুকতে পারছে না, প্রার্থনা চলাকালেও সবাই মাস্ক পরে আছে।
তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে সকাল ৭টায় শুরু হয় প্রার্থনা সভা। বিরতি দিয়ে আবার সকার ৯টায় শুরু হয়ে ১০টায় শেষ হয়। সেখানেও দেশের মানুষের শান্তি কামনা ও করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়।
মহাখালীর লুর্দের রানীর গির্জা, লক্ষ্মীবাজারের ক্রুশ ধর্মপল্লী, মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা গির্জা, মিরপুর-২ এর মিরপুর ক্যাথলিক গির্জা, কাফরুলের সেন্ট লরেন্স চার্চগুলো বড়দিন উপলক্ষে সেজেছে। ক্রিসমাস ট্রি থেকে ঝুলছে আলোর মালা। বানানো হয়েছে খ্রিস্টের জন্মের ঘটনার প্রতীক গোশালা। সেই সঙ্গে বড় দিনের কেক তো আছেই।
বড়দিন শনিবার হলেও আগের রাত থেকেই উৎসবে মেতে ওঠেন খ্রিস্টানরা, তাদের বাড়ি বাড়ি শুরু হয় উৎসব। পাশাপাশি অভিজাত হোটেলগুলোতেও কর হয় বিশেষ আয়োজন। হোটেলগুলোতে শিশুদের জন্য দিনভর রয়েছে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।
দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু ২৫ ডিসেম্বর ইসরাইলের বেথলেহেম শহরে জন্ম নেন।
সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার ও মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা করার জন্য ঈশ্বর যিশুকে মানবরূপে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন বলে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানাদি স্বাধীনভাবে পালন করে আসছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমি একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।”
বড়দিনের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করি। আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকলে মিলে মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।”
