মহামারীকালে নতুন ঠিকানার বাণিজ্য মেলাও ‘সফল’


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: February 01, 2022 09:26:07 | Updated: February 01, 2022 18:35:47


মহামারীকালে নতুন ঠিকানার বাণিজ্য মেলাও ‘সফল’

একে তো করোনাভা্ইরাস মহামারী, তার উপর স্থান সরে গেছে ঢাকা নগরীর বাইরে; তারপরও এবারের বাণিজ্য মেলাকে সফল বলছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এবারের মেলায় গড়ে দিনে লক্ষাধিক মানুষ এসেছে বলে খুশি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আর বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী খুশি মেলার পরিবেশ নিয়ে।

নতুন ঠিকানা ঢাকার পূর্বাচলে সোমবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২২ এর পর্দা নামার অনুষ্ঠানে দুই মন্ত্রীই উপস্থিত ছিলেন।

আর মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) হিসাব দিয়েছে যে এবারের মেলায় ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে।

সেই হিসাবে মেলাকে সফল বলা কষ্টকর, কেননা ২০১৯ সালের মেলায়ও রপ্তানি আদেশ পাওয়া গিয়েছিল ২০০ কোটি টাকার।

১৯৯৫ সালে শুরুর পর থেকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল এই বাণিজ্য মেলা। এবারই প্রথম তা স্থায়ীভাবে সরে গেল পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে।

করোনাভাইরাস মহামারী হানা দেওয়ার পর গত বছর বাণিজ্য মেলা হয়নি। এবারও হবে কি না, সংশয় ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ উপেক্ষা করেই গত ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা পুরো মাসব্যাপী চলে।

সোমবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, পূর্বাচলে নতুন করে মেলা শুরু করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতা নানা শঙ্কা কাজ করেছিল।

কিন্তু পরে দেখা গেল প্রতিদিন লক্ষাধিক দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। চমৎকার পরিবেশে সারাবছরই এখানে বিভিন্ন ধরনের মেলা আয়োজন করার ইচ্ছা আমাদের আছে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, যারা একবার এসেছে, এখানকার পরিবেশ দেখে তারা পরে আরও কয়েকবার এসেছেন। শিশুদের ঘোরাফেরা, খেলাধুলার সুন্দর পরিবেশ ছিল। ভালো খাবারের রেস্টুরেন্ট ছিল, ঘোরাফেরা বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। সব মিলিয়ে সুন্দর পরিবেশ। রিয়েল সাকসেসফুল বাণিজ্য মেলা।

বাণিজ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি আগামী বছরের জন্য সাবধান হন। এখানে জায়গা আরও বাড়াতে হবে। অনেক জায়গার প্রয়োজন হবে, অনেক লোক আসবে। তাদের কীভাবে ম্যানেজ করবেন সেই প্রস্তুতি নিন।

এবার রাস্তাঘাট খারাপ ছিল। আগামী বছর রাস্তাঘাট ভালো হয়ে যাবে। পাশাপাশি কোভিডও হয়ত থাকবে না। তখন এখানে লোক আসবে কয়েকগুণ বেশি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেন, তিনি রাজি হয়ে যাবেন বলে আমার বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, মেলার মূল ভবনের মতো আর ৩ থেকে ৪টি ভবন যেন পাশেই তৈরি করা হয়। কারণ ২০৪১ সালে আমাদের রপ্তানি টার্গেট ৩০০ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অর্থনীতি বড় হচ্ছে আরও ব্যবসায়ী এ মেলায় অংশ নেবেন।

মহামারীর মধ্যেও দেশের শিল্পোৎপাদন ও রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর ৫১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এটা পূরণ করা সম্ভব হবে বলেই মনে হচ্ছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে বার্ষিক রপ্তানি ৮০ বিলিয়ন ডলার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। তখন এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে আমাদের অনেক বাণিজ্য সুবিধা থাকবে না। সেই সময়ের জন্য এখনই কয়েকটি দেশের সঙ্গে পিটিএ এবং এফটিএ স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ১২ ক্যাটাগরিতে এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ৪২টি স্টল-প্যাভিলিয়নকে এবং বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়।

কোটি ৬০ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ

ইপিবি কর্মকর্তারা জানান, এবার মেলার ২৬তম আসরে রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে ১৬ মিলিয়ন ডলারের।

এছাড়া ৪০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে মেলায়। তা থেকে ভ্যাট আদায় হয়েছে দেড় কোটি টাকার।

মহামারীর কারণে এবার মেলায় কমানো হয় স্টলের সংখ্যা। এছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও ছিল কম।

২০২০ সালে ৪৮৩টি ছোট-বড় স্টল ও প্যাভিলিয়ন ছিল, সেখানে এবার ছিল ২২৫টি। এর মধ্যে বিদেশি ৬টি স্টল ও ৪টি মিনি প্যাভিলিয়ন ছিল।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আনসার পুলিশ, আর্মড, পুলিশ, ব্যাটালিয়ন ও র্যাবের ৫ শতাধিক কর্মী নিয়োজিত ছিল।

Share if you like