যাত্রাপথে বমিভাব বা মোশন সিকনেস অনেকের ক্ষেত্রেই যেন নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দেখা দেয়। তবে এটি নেহায়েতই কোনো অভ্যাসগত বিষয় নয়।
কী কারণে বমিভাব হয়
বিভিন্ন কারণে ভ্রমণে বমিভাব হতে পারে। তবে তারমধ্যে অন্যতম একটি কারণ, কান এবং চোখের সমন্বয়হীনতা।
এ প্রসঙ্গে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের, নাক, কান, গলা বিভাগের ডাক্তার মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ বলেন,“বাস যখন চলতে শুরু করে, তখন বিভিন্নভাবে তা ঝাঁকুনি দেয়। কানে এক ধরনের ফ্লুইড থাকে, ঝাঁকুনিতে তা নড়তে শুরু করে, এবং মস্তিষ্কে গতিশীলতার খবর পাঠায়। অন্যদিকেচোখ বলে অন্য কথা৷ কারণ, চোখের হিসাবে গাড়িতে অবস্থানরত সবাই স্থির। দু'টো দু'রকমের তথ্য হওয়ার কারণেশরীর বুঝে উঠতে পারে না। তখনই দেখা দেয় মোশন সিকনেস বা বমিভাব। এছাড়াওযাত্রাপথে ভরপেট খাওয়াদাওয়া, পেছনের আসনে বসা, অ্যাসিডিটির সমস্যাসহ আরও নানা কারণে বমিভাব হতে পারে।”
সমাধান
মোশন সিকনেসের কারণে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে কেইবা চায়। মেডিক্যাল সায়েন্সে প্রমাণিত কিছু উপায় আছে, যা খেয়াল রাখতে পারলে, এ সমস্যাটি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ ব্যাপারে, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স অ্যান্ড রিসার্চের গবেষক ও চিকিৎসক ডাক্তার রিফাত আল মাজিদের কিছু পরামর্শ জেনে নেয়া যাক,
- গাড়ির সামনের দিকে বসার চেষ্টা করতে হবে। পেছনের দিকে বসলে গাড়িকে বেশি গতিশীল বলে মনে হয়। তখন মোশন সিকনেস সমস্যাটি বেশি হয়।
- চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে নেয়া যেতে পারেএতে স্থিরতার খবর চোখ টের পায় না।
- জানলার পাশে বসতে পারলে খুব ভালো হয়। যথাসম্ভব বাইরে তাকিয়ে থাকুন। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখার পাশাপাশি মোশন সিকনেসও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
- গাড়িতে ওঠার আগে হালকা নাস্তা খাওয়া যেতে পারে৷ ভ্রমণে ভরপেট খাওয়াদাওয়া না করাই ভালো।
- অন্য কোনো যাত্রীর বমি করা দেখলে যদি সমস্যা হয়, তবে ভিন্নদিকে মনোযোগ দেয়া উচিত।
- যাত্রাপথে অবশ্যই অপরিচিত কারো দেয়া কোনোপ্রকার খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়।
ঘরোয়া উপায়
সমস্যা সমাধানেঘরোয়া কিছু জিনিসও সঙ্গে রাখা যেতে পারে। সবচেয়ে সহজলভ্য লেবু এক্ষেত্রে অন্যতম বন্ধু। যাত্রাপথে বমিভাব করলে এক টুকরো লেবু মুখে দেয়া বা লেবুপাতার ঘ্রাণ নেয়া অনেকটাই কাজে আসে। তবে যাদের অ্যাসিডিটি সমস্যা রয়েছে, তারা লেবু না খেয়ে তার ঘ্রাণ শুঁকে নিতে পারেন।
তারপর বলা যায় আদার কথা৷ এক টুকরো আদা চায়ের সঙ্গে খাওয়া গেলে মোশন সিকনেস অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যায়। তবে ভ্রমণে অনেকসময় চা সহজলভ্য না-ও হতে পারে৷ এক্ষেত্রেএক টেবিল চামচ লেবুর রস, এক টেবিল চামচ আদার রস এবং খানিকটা বেকিং সোডা মিশিয়ে ছোট একটি বোতলে নিয়ে নিতে পারেন৷ এটি বমিভাব কাটাতে বেশ ভালো কার্যকর।
ওষুধপত্র
ঘরোয়া উপায়, বিজ্ঞান উপায়, সকল উপায় কাজে লাগানোর পর যদি তবুও বমিভাব না কাটে, তখন ওষুধই শেষ ভরসা।
এ ব্যাপারে ডাক্তার রিফাত আল মাজিদের পরামর্শ হচ্ছে— সাধারণ কিছু ওষুধ, যেমন, বাজারে জয়ট্রিপ নামে ওষুধ পাওয়া যায়, এছাড়াও অনডেনসেট্রন, ডমপেরিডনজাতীয় ওষুধও সঙ্গে নেয়া যেতে পারে। তবে ওষুধ সেবনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com
