Loading...
The Financial Express

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে বিপাকে ফেলা এই নূপুর শর্মা কে?

| Updated: June 08, 2022 16:00:02


নূপুর শর্মাকে বিজেপির উদীয়মান নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এখন তা পাল্টে গেল। নূপুর শর্মাকে বিজেপির উদীয়মান নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এখন তা পাল্টে গেল।

ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে আলোচনায় এখন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা নূপুর শর্মা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দলের মুখপাত্র নূপুর শর্মার সদস্যপদ এরই মধ্যে স্থগিত করেছে বিজেপি।

ভারতে গত মাসে স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বিতর্কের সময় তিনি মহানবীকে নিয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্য করেছিলেন।

তার সেই বক্তব্যের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কূটনৈতিকভাবেও বিপাকে পড়ে ভারত সরকার।

এর জেরে অবশ্য পরে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এ নিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন নূপুর শর্মা।

টুইটারে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার উদ্দেশে তিনি ওই কথা বলেননি।

নূপুর শর্মাকে নিয়ে নানা তথ্য এসেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য প্রিন্টে।

কে এই নূপুর শর্মা?

মূলত পেশাজীবীদের নিয়ে গড়ে তোলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিংকডইন-এর প্রোফাইলের তথ্যানুযায়ী নূপুর শর্মা পেশায় আইনজীবী এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।

তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস (এলএসই) থেকে।

এনডিটিভি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন রাজনীতিতে যুক্ত হন নূপুর। তার লিংকডইন প্রোফাইল বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রযুক্তি বিষয়ক দূত হিসেবে কাজ করেছেন।

রাজনৈতিক জীবন

অস্ট্রেলিয়া-ইনডিয়া ইয়ুথ ডায়ালগের বরাতে এনডিটিভি জানায়, ২০০৮ সালে দিল্লি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস’ ইউনিয়নের (ডিইউএসইউ) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নূপুর শর্মার রাজনীতিতে পথচলার শুরু।

এরপর তিনি বিজেপির যুব শাখা ভারতীয় জনতা যুব মোর্চায় (বিজেওয়াইএম) কাজ শুরু করেন।

২০২০ সালে বিজেপির বর্তমান সভাপতি জে পি নাড্ডা দলের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে নূপুর শর্মাকে দায়িত্ব দেন। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগে সম্প্রতি তাকে ভারতীয় রাজনীতিতে একজন উদীয়মান তারকা হিসেবেই দেখা করা হচ্ছিল।

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২০১৫ সালে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে নয়া দিল্লি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নূপুর। তবে জিততে পারেননি তিনি।

বিতর্কিত মন্তব্য

এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছিলেন নূপুর। ২০১৭ সালে কলকাতা পুলিশ তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনে।

২৬ মে’র টেলিভিশন বিতর্কে নূপুর শর্মার বক্তব্যের জেরে ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে দাঙ্গার পর দলের মুখপাত্র নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিজেপি। ওই দাঙ্গায় ৪০ জনের বেশি আহত হয় এবং সহিংসতায় জড়িত অভিযোগে দেড় হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উপসাগরীয় দেশ কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইনের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, মালদ্বীপ, জর্ডান, লিবিয়াও ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।

কুয়েতে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইরান, কুয়েত ও কাতার ওই ঘটনায় নিন্দা জানাতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। সৌদি আরব কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, উপসাগরীয় এবং এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে নয়া দিল্লির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় ভারতীয় কূটনীতিকরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ঝড়ের যে আরও অনেকখানি বাকি তা টের পাওয়া যাচ্ছে।

বিতর্কিত ওই মন্তব্যের জেরে ৫৭ সদস্যের অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) এবং পাকিস্তানও ভারতের সমালোচনা করেছে। দিল্লি অবশ্য ওআইসি ও পাকিস্তানের সমালোচনাকে উড়িযে দিয়েছে। বলেছে, তাদের মন্তব্য ‘অবাঞ্ছিত ও সংকীর্ণচিত্তের’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জল অনেকদূর গড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে এখন বিজেপি ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়া লাগতে পারে। তা না হলে আরব বিশ্ব ও ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

 

Share if you like

Filter By Topic