Loading...

ব্রিটিশ রানীর শখের জগৎ

| Updated: April 22, 2022 09:45:45


ব্রিটিশ রানীর শখের জগৎ

আজ রানীর জন্মদিন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত কুইন এলিজাবেথ (দ্বিতীয়) পদার্পন করলেন ৯৬ তম বছরে।

১৯২৬ সালের ২১ শে এপ্রিল ইয়র্কের ডিউক জর্জ ও ডাচেস এলিজাবেথের কোলে প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেন আজকের ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী ।এই দম্পতির সন্তানদের মধ্যে তিনিই হলেন জ্যেষ্ঠ। প্রথম হিসেবে তাই মায়ের নামেই হয়েছিল রানীর নামকরণ। 

রানীর অভিষেক ঘটেছিল ১৯৫২ সালে। ব্রিটেনের ইতিহাসে এই পর্যন্ত তিনিই দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসন সামলে আছেন। রানী এলিজাবেথকে নিয়ে তার প্রজাদের তো বটেই, সারা বিশ্ববাসীর কৌতুহলের শেষ নেই। রানীর কেমন চলন , কেমন বলন - সবই যেন অনুসরণীয়। রাজকীয় ঠাঁট-বাটের বাইরে রানীর ব্যক্তিগত জীবনেও সাধারণের আগ্রহের কমতি নেই। আজকের আয়োজনটি রইলো রানীর শখের জগৎ নিয়ে মানে ইংরেজিতে যাকে বলে হবি।

ঘোড় - সওয়ারী

যেকোনো রাজবংশীর ঘোড়ার প্রতি আজন্ম  আকর্ষণ কাজ করে। আর ব্রিটেন সম্রাজ্ঞীর অন্যতম নেশাই হলো ঘোড় - সওয়ারী।  ছোটবেলায় এইটাই ছিল রানীর ধ্যান - জ্ঞান। দিনে একবার হলেও ঘোড়ার পিঠে চড়া চাই। মাত্র তিন বছর বয়সে তার ঘোড়া চালানো শেখার শুরু। ৪ বছর পূর্ণ করতেই তাকে একটি ঘোড়া শাবক দিয়ে দেয়া হয়। তখন থেকেই প্রায়ই ঘোড়ার পিঠে করে বেড়াতে যেতেন উইন্ডসর পার্কে। রানী এলিজাবেথ রাজকীয় কাজের বাইরে ঘোড়াদের সাথেই সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন। রানীকে যেন এটা সব অবসাদ থেকে মুক্তি দিতো।

ঘোড়া এবং ঘোড়া চালাবার বিশ্বকোষটাই যেন তিনি মাথায় করে চলেন। ১৯১১ সাল হতে রানী গ্রীষ্মকালে আয়োজিত রাজকীয় ঘোড় দৌড়ে নিয়মিত অংশ নিতেন। পুরষ্কৃত হয়েছেন বহুবার। দর্শক হিসেবেও উপভোগ করেছেন ঘোড়াদের দৌড় প্রতিযোগিতা।

সূর্যের প্রখর তাপ কিংবা তুষার ঢাকা পথ , যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি ঘোড়া সামলাতে একেবারে নিপুণ। যদিও কোভিড লকডাউনে তাকে প্রিয় ঘোড়ার পিঠে দেখা গেছে,  কিন্তু এখন বয়সজনিত কারণে তাকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে সবচেয়ে প্রিয় শখটি।

ছবিসূত্র: টাউন এন্ড কান্ট্রি ম্যাগ

পোষ্যের প্রতি ভালোবাসা

পশুপাখিদের সাথে থাকতে রানী খুব পছন্দ করেন। খুব ছোটবেলায় ডুকি নামে তার একটি পোষ্য কুকুর ছিল। ১৮ তম জন্মদিনে কগি জাতীয় একটি কুকুর উপহার পান, যার উত্তরসূরিরা বংশ পরম্পরায় এখনো রানীর পোষ্য।

ছবিসূত্র: রয়েল.ইউকে

রাজবাগানে নতুন বাগানি

উইন্ডসর দুর্গে তখন চলছিল বাগান সংস্কারের কাজ। রানী লক্ষ্য করলেন কতখানি যত্নে মালী সেখানে গাছ লাগায় , তাই গাছেদের প্রতি রানীর নতুন এক ভালোবাসা জন্মালো। এরপরে বাকিংহাম মহলের বাগানে বাগান বিলাসে মজলেন রানী,  নিজ হাতে চারা লাগিয়ে।

ছবি: দ্য মিরর

বাগানে ফুল খুব প্রিয় রানীর। রানীর সবচেয়ে প্রিয় ফুলের তালিকায় শীর্ষে  'লিলি অফ দ্য ভেলি'। এছাড়াও পছন্দে আছে অর্কিড আর কার্নেশন।

ডাকটিকিটের অ্যালবাম

রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে কতো শতোই না চিঠি পেয়েছেন রানী এলিজাবেথ। কিন্তু সেই চিঠি পড়ে সযত্নে তুলে রাখতেন ডাকটিকিট। তার অনেকগুলি আবার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। ডাকটিকিট জমাবার নেশা বিষম নেশা। তাই বিভিন্ন দেশ থেকে পুঁজি বাড়িয়েছেন সংগ্রহের। এমনি করে রানীর অ্যালবামে ঠাঁই পেয়েছে বিশ্বের সব দুর্লভ আর মূল্যমানে অমূল্য ডাকটিকিট। ব্রিটিশ হেরিটেজের একটি প্রতিবেদনে , রাজকীয় গবেষক ফিল ড্যাম্পিয়ার জানিয়েছেন , রানীর সংগ্রহটির মূল্য হতে পারে ২ মিলিয়ন পাউন্ড।

ছবিসূত্র: ব্রিটিশ হেরিটেজ ট্রাভেল

পায়রা দৌড়

ব্রিটিশ রাজন্যবর্গের বড় আহ্লাদের জিনিস হলো পায়রা দৌড়। ১৮৮৬ সালে চালু হয়ে  রাজা এডওয়ার্ডের হাত ধরে খেলাটি এখনো পাকাপাকি ভাবে রয়ে গেছে। কারণ এর নিয়ন্তা এখন রানী এলিজাবেথ। দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের পরে এটি বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিল। রানী পৃষ্ঠপোষক হয়ে এই দাতব্য খেলাটি চালু রেখেছেন। সান্ড্রিং‍হাম স্টেটে রানীর সংগ্রহে আছে ২০০ কবুতর , যারা বিভিন্ন সময় অংশ নেয় খেলায়।

সুস্মিতা রায় বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজে ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

susmi9897@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic