Loading...
The Financial Express

ব্যাটিং হতাশার ফাঁকে সাকিব-সোহানের ক্যামিও

| Updated: July 03, 2022 18:38:37


ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট টুইটার। ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট টুইটার।

৫ বছর পর ডমিনিকায় একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। হারিকেন মারিয়ার ছোবলে বিপর্যস্ত দ্বীপের ঘুরে দাঁড়ানো ও বিধ্বস্ত স্টেডিয়াম সংস্কারের পর প্রথম ম্যাচটি রূপ নেয় যেন জাতীয় উৎসবের। ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর নানা সাজে মাঠে দেখা গেল দর্শকদের। নেচে-গেয়ে, বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে তারা মাতিয়ে রাখলেন গ্যালারি। টসের সময় মাঠে থাকলেন ডমিনিকার প্রধানমন্ত্রী রুজভেল্ট স্কেরিট স্বয়ং। কিন্তু বৃষ্টির জলে শেষ পর্যন্ত ভেসে গেল সব আনন্দ আয়োজন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হলো বৃষ্টিতে।

যতটুকু খেলা হয়েছে, তাতে শেষের ফলাফলে বাংলাদেশ দলের খুব অখুশি হওয়ার কথা নয়। আরও একটি ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রদর্শনী যে দেখা গেছে এ দিন! স্রেফ সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানের ব্যাট থেকে আসে ছোট্ট দুটি টি-টোয়েন্টি উপযোগী ইনিংস।

ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে শনিবার বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচ নেমে আসে ১৬ ওভারে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের অষ্টম ওভারে আবার বৃষ্টি নামার পর ম্যাচ হয়ে যায় ১৪ ওভারের। সেটিও এক ইনিংস শেষ হয়নি। বাংলাদেশ ইনিংসের ১৩ ওভারের পর আরেক দফা বৃষ্টিতে ম্যাচের সমাপ্তি।

খেলার ইতি টানার সময় অবশ্য রোদ ছিল বেশ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের অন্তত ৫ ওভার হওয়ার মতো সময় তখন আর ছিল না।

১৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ৮ উইকেটে ১০৫। কেবল তিনজন ব্যাটসম্যান স্পর্শ করতে পারেন দুই অঙ্ক।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা যদিও ছিল আশা জাগানিয়া ও ইতিবাচক। কিন্তু পরে আর ধরে রাখা যায়নি তা। লম্বা সময় টিকতে পারেননি কেউ, একজনও পারেননি দারুণ ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে নিতে।

বাংলাদেশ ইনিংস শুরু করে মুনিম শাহরিয়ার ও এনামুল হককে দিয়ে। প্রায় ৮ বছর পর এই সফর দিয়ে টেস্টে ফেরেন এনামুল। এখন তিনি টি-টোয়েন্টিতে ফিরলেন সাড়ে ৬ বছরের বেশি সময় পর। তবে ফেরার ম্যাচ স্মরণীয় তরে রাখতে পারেননি এনামুল, জমেনি নতুন জুটিও।

শুরুতে আউট হন যদিও মুনিম। বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনের শিকার হন তিনি ম্যাচের তৃতীয় বলেই। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ২১ রান করার পর এবার মুনিম ফেরেন ২ রানে।

এনামুলের শুরুটা ছিল রোমাঞ্চকর। তার শরীরী ভাষায় ছিল আগ্রাসনের ছাপ, প্রথম দুই বলেই আদায় করেন বাউন্ডারি। তবে ১০ বলে ১৬ রান করে তার এই অভিযান থামে বাঁহাতি পেসার ওবেড ম্যাককয়ের ফুল লেংথ বলে।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরন তাতে বদলায়নি। তিনে নামা সাকিবকে মনে হচ্ছিল যেন কোনো মিশন নিয়ে নেমেছেন। উইকেটে যাওয়ার পরপরই রোমারিও শেফার্ডকে লফটেড কাট শটে চার মারার পর তিনি চার-ছক্কা মারেন আকিলের পরপর দুই বলে।

৫ ওভারের পাওয়ার প্লেতে রান আসে ৪৬। গত এক বছরে প্রথম ৫ ওভারে এত রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ!

পাওয়ার প্লে শেষে বোলিংয়ে আসা লেগ স্পিনার হেইডেন ওয়ালশকে ছক্কায় স্বাগত জানান সাকিব। দ্বৈরথে জয়টা অবশ্য ওয়ালশেরই হয়। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের ‘রং আন’ ডেলিভারিতে স্লগ করতে গিয়ে সাকিব ফেরেন ১৫ বলে ২৯ করে।

লিটন দাস বিদায় নেন এর আগেই। দুটি বাউন্ডারির পরও তার ৯ রান করতে লাগে ১৪ বল।

সাকিবের বিদায়ের এক বল পরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। বৃষ্টি শেষে প্রথম বলেই ওয়ালশকে স্লগ করে উইকেট বিলিয়ে আসেন আফিফ হোসেন (০)। দলকে ভালো জায়গায় নিতে পারেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও (১৩ বলে ৮)।

সপ্তম থেকে একাদশ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারায় স্রেফ ২১ রানে।

সেখান থেকে দলের রান একশ ছাড়াতে পারে সোহানের ব্যাটিংয়ে। ওডিন স্মিথের এক ওভারে চোখধাঁধানো র‌্যাম্প শটে ছক্কার পর আরেকটি ছক্কা মারেন তিনি স্লগ করে। ১৬ বলে ৩১ করে আউটও হন ওই ওভারেই।

এক বল পরই বৃষ্টি এবং একটু পর ম্যাচের ইতি। বাংলাদেশের তাতে খানিকটা হলেও স্বস্তি পাওয়ার কথা। তবে নিজেদের মেলে ধরার কাজটি তাদের করতে হবে দ্রুতই। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ যে রোববারই!

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ১৩ ওভারে ১০৫/৮ (মুনিম ২, এনামুল ১৬, সাকিব ২৯, লিটন ৯, মাহমুদউল্লাহ ৮, আফিফ ০, সোহান ২৫, মেহেদি ১, নাসুম ৭*, শরিফুল ০*; আকিল ৩-০-২২-১, শেফার্ড ৩-০-২১-৩, ম্যাককয় ২-০-১৬-১, স্মিথ ২-০-২২-১, ওয়ালশ ৩-০-২৪-২)

ফল: ম্যাচ পরিত্যক্ত।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে  ০-০ সমতা।

 

Share if you like

Filter By Topic