দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে ভোজ্য তেলের দামে উল্লম্ফনের জন্য বিশ্ববাজারকে কারণ দেখিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা তো সত্যি কথা যে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদেরকে তো কিছু করার নেই।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়ানোয় সরকারকেও তা বাড়াতে হচ্ছে উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, তেলের দাম আমরা বাড়িয়েছি, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া বেড়েছে।
এখন দেশের বাজারেও দামে লাগাম টানতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এর সাথে (আন্তর্জাতিক বাজার দর) সামঞ্জস্য রেখে যদি আমরা ঠিক না করে দেই, তাহলে তো ব্যবসায়ীরা তেল আনবেই না। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এজন্য ট্যারিফ কমিশন বসে আন্তর্জাতিক বাজারের ১০/১৫ দিনের প্রাইস দেখে একটি প্রাইস ফিক্সড করা হয়েছে, যেটা হওয়া উচিৎ।
দাম নিয়ে কারসাজি হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন টিপু মুনশি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমলে আমাদের পক্ষে ব্যবসায়ীদের চাপ দিয়ে তো দাম কমানো সম্ভব হবে না।
তবে যেই দাম আমরা ঠিক করে দিলাম, তার থেকে বেশি দামে বিক্রি করলে তখন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মাধ্যমে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে টিসিবির মাধ্যমে কম দামে বিক্রির কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আমরা যেটা পারি সেটা করার চেষ্টা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে সেটা সাধারণ মানুষকে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখন প্রতিদিন ৪০০ ট্রাকে করে টিসিবির মাধ্যমে সুলভ মূল্যে পণ্য বিপণন করা হচ্ছে। সেটা দরকার পড়লে ৮০০ করে দেব।
পেঁয়াজের কেজি ৪৫ টাকার পক্ষে মন্ত্রী
উত্তোলন মৌসুমে পেঁয়াজের দাম প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
দুই সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজের কেজি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে বাজারে পণ্যটির দাম ৫০ টাকার উপরে।
পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন- এ প্রশ্নের উত্তরে টিপু মুনশি বলেন, এর উল্টোটা যদি বলি, পেঁয়াজের দাম ২৫ টাকা হয়ে গেল কেন? সেখানেও কিন্তু কৃষকরা বলছে, পেঁয়াজ কিন্তু আমরা রাস্তায় ফেলে দেব (যদি পেঁয়াজের দাম না বাড়ে)।
আসলে এটা কাঁচামালের সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ডের ব্যাপার। এই কাঁচামাল দুই দিন যদি সরবরাহ বন্ধ থাকে, তাহলে দাম বেড়ে যায়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে জায়গা ভেদে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রতিকেজি ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাহলে এটাকে অন্তত ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হবে। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজবাড়ীতে কৃষকরা যদি ২৫ টাকায় বিক্রি করেন, তাহলে হাত ঘুরে ঢাকাতে সেটা ৪০/৪৫ টাকা হবে।
এখন ঢাকায় যখন ২৫ টাকা হয়ে গেল, তখন কৃষিমন্ত্রী আমাকে বললেন, আমরা সব ইমপোর্ট বন্ধ করে দেব, কৃষকরা তো কান্না কাটি করছে। এটা হচ্ছে আমাদের সমস্যা। যদি দাম কমে যায়, কৃষকরা বলেন কী করবো? আবার যখন বেড়ে যায় ভোক্তারা বলেন, দাম বেড়ে গেছে।
রোজায় কোটি মানুষ পাবে টিসিবির পণ্য
আগামী রোজায় এক কোটি পরিবারের কাছে টিসিবির সুলভ মূল্যের পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি বলেন, আমরা চিন্তা করলাম রমজান মাস উপলক্ষে ৫০ লাখ মানুষকে সুলভ মূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়া যায় কি না। সেটা ট্রাকের মাধ্যমে নয়, আগে যেভাবে তৃণমূলের তালিকাভুক্ত মানুষকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হতো সেই তালিকা ধরে দুস্থ লোকদের কাছে টিসিবির সুলভমূল্যের পণ্য পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে যে, ৫০ লাখ নয়, এক কোটি মানুষকে এই সুবিধা দিতে হবে। আমরাও এখন সরকারিভাবে চেষ্টা করছি এক কোটি মানুষকে এই সুবিধা দিতে।
২০১৮ সালের কৃষি শুমারি অনুযায়ী, তিন কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৫৯ লাখ এবং গ্রামাঞ্চলে দুই কোটি ৯৬ লাখ পরিবার রয়েছে।
বর্তমানে টিসিবির ট্রাকে পেঁয়াজ, চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। রোজায় এর সঙ্গে ছোলা ও খেজুর যুক্ত করে বিতরণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।